শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগানো এবং চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে পাঁচটি প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।
প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক রুটে অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ চালু, বিমানবন্দর ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিমানবন্দরের আশপাশে কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি/সিএফএস সুবিধা গড়ে তোলা।
চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক শনিবার অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব প্রস্তাব দেন।
চিঠিতে চেম্বার ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা এবং চট্টগ্রামকে আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে গড়ে তুলতে সরকারের উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
চেম্বার বলেছে, কৌশলগত অবস্থান, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর, বড় পাইকারি বাজার, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল থাকায় চট্টগ্রাম ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য ও বিনিয়োগকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
তবে, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো হ্যান্ডলিং, ইউএলডি কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের সুযোগ থাকলেও এটি এখনও পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে না বলে উল্লেখ করেছে চেম্বার।
বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়িয়ে আরও বেশি আন্তর্জাতিক সংযোগ আকর্ষণের মাধ্যমে এটিকে পূর্ব-পশ্চিমের বিমান, পর্যটন ও লজিস্টিকস গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দিয়েছে চেম্বার।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য সমন্বিত লজিস্টিকস ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চট্টগ্রাম বন্দর ও বিমানবন্দরের মধ্যে যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠনটি।
এ লক্ষ্যে বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকায় প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি), বিল্ড-অন-অপারেট (বিওও) এবং বিল্ড-ওন-অপারেট-ট্রান্সফার (বিওওটি) মডেলে বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চেম্বারের পাঁচ প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে–
শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা, আন্তর্জাতিক রুটে ৪০ শতাংশ অগ্রাধিকারমূলক ট্যারিফ চালু করা, দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের যাত্রী ওঠানামার সুবিধা নিশ্চিত করা, দীর্ঘপাল্লার ফ্লাইটের জন্য ট্রানজিট ও জ্বালানি সরবরাহের সক্ষমতা গড়ে তোলা, পিপিপি, বিওও, বিওওটি ব্যবস্থায় বিমানবন্দরের আশপাশে কার্গো ভিলেজ ও আইসিডি/সিএফএস সুবিধা স্থাপন করা।
চেম্বার বলেছে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হলে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিদ্যমান সম্ভাবনার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি আঞ্চলিক বিনিয়োগ ও লজিস্টিকস হাব হিসেবে চট্টগ্রামের ভূমিকা আরও শক্তিশালী হবে।
চিঠিতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে প্রস্তাবগুলো বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথ দিকনির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।


