চট্টগ্রাম নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের একটি প্রস্তাবিত প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষার ফলাফলে প্রতিদিন প্রায় এক হাজার টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করে ১২ থেকে ১৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার নগর ভবনে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে জাপানের জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাতে এ তথ্য জানানো হয়।
জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রতিনিধিরা জানান, জাপানের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পরিচালিত সমীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। সমীক্ষা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি চট্টগ্রামে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প বাস্তবায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে জাপান-বাংলাদেশ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্ল্যাটফর্মের আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাপান সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক সম্মতিও রয়েছে বলে জানানো হয়।
সাক্ষাৎকালে শাহাদাত বলেন, চট্টগ্রাম প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ বর্জ্য উৎপাদন করে। এই বর্জ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা না গেলে পরিবেশ দূষণ, জলাবদ্ধতা ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাই বর্জ্যকে শুধু অপসারণযোগ্য বর্জ্য হিসেবে না দেখে সম্পদে রূপান্তরের উদ্যোগ সময়ের দাবি।
তিনি বলেন, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুধু একটি জ্বালানি প্রকল্প নয়; এটি পরিবেশ সুরক্ষা, টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার একটি সমন্বিত উদ্যোগ। জাপানের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও বাংলাদেশের প্রয়োজনের সমন্বয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আসবে।
সাক্ষাতে জেএফই ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গেন তাকাহাসি, কেন্টা ওহাসি ও ভাস্কর সাহা। চসিকের পক্ষে ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন এবং প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।


