মিয়ানমারের কাচিন রাজ্যের জেড স্টোন (রত্নপাথর) খনি এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা বাহিনী। এ হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত ও ৫০ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে জান্তাপন্থী টেলিগ্রাম চ্যানেলগুলো। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি বলে দাবি করেছে কাচিনের স্বাধীনতাকামী বাহিনী- কেআইএ। দুর্লভ পাথরের ওই খনিগুলো কেআইএ’র নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার কাচিনের হপাকান্ত টাউনশিপে সশস্ত্র বিদ্রোহী কেআইএ-এর একটি প্রশিক্ষণ শিবির ঘিরে ওই হামলা চালানো হয়। মূলত মহামূল্যবান জেড স্টোনের রাজধানী খ্যাত কাচিনের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হপাকান্তে আকাশপথে হামলা ও স্থল অভিযান জোরদার করেছে জান্তা সরকার।
কেআইএ মুখপাত্র এবং স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের জান্তা সরকারের একটি যুদ্ধবিমান হপাকান্ত শহর থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার উত্তরে কানসি গ্রামের কাছে কেআইএ ব্যাটালিয়ন ৬-এর নিয়ন্ত্রিত এলাকায় বোমাবর্ষণ করেছে। কাচিন রাজ্যের উত্তর সাগাইং অঞ্চলের সীমানার কাছে এই টাউনশিপে একটি গুরুত্বপূর্ণ জেড স্টোনের খনি রয়েছে।
কেআইএ মুখপাত্র কর্নেল নও বুও ইরাবতীকে জানান, জান্তা বাহিনীর ওয়াই-টুয়েলভ বিমান প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ওই এলাকাটিতে বোমা বর্ষণ করে। তিনি দাবি করেন, ‘মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে শুরু হওয়া ওই হামলায় বিমান থেকে প্রায় ৩০টি বোমা ফেলা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহত হয়নি।’
কাচিনের জেড স্টোনের খনির দখল নিতে কোনো স্থল যুদ্ধ চলছে না বলেও দাবি করেন তিনি। কর্নেল নও বুও বলেন, ‘মনে হচ্ছে তারা (জান্তা বাহিনী) কেবল সন্দেহ থেকে ওই এলাকায় বোমা ফেলেছে। তারা ভেবেছিল সেখানে আমাদের প্রতিরোধ যোদ্ধারা আছেন। তবে এটি একটি ভুল ধারণা ছিল।’

এর আগে, চলতি বছরের শুরুর দিকে জেড খনিগুলোর দখল নিতে হপাকান্ত শহরে কেআইএ-এর অবরোধ ভেঙে দেয় জান্তা বাহিনী। তারপর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আর্টিলারি(গোলা-বারুদ) যুদ্ধ চলছে।
গত সোমবার হপাকান্ত শহরের কাছাকাছি সেং টাউং ও ইউমার গ্রামেও কেআইএ ও জান্তা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের খবর দেয় ইরাবতী।
এদিন দুই শতাধিক জান্তা সেনা হপাকান্ত শহর থেকে কামাইং সড়কের পূর্বদিকে এগিয়ে যায় এবং হপাকান্ত শহরে নিজ নিজ ঘাঁটি রক্ষায় ৬০০ সেনা মোতায়েন করে জান্তা সরকার।
জেড খনির এই পাহাড়গুলোর নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়া মানে পুরো হপাকান্ত এলাকায় আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা। সামরিক বিশ্লেষকরা বলছেন, লেমাউনকন ও মাওমাওবওয়ান পাহাড় থেকে হপাকান্তের পুরো খনি এলাকাই নজরদারিতে রাখা যায়। অর্থাৎ, যিনি এই পাহাড় নিয়ন্ত্রণ করেন, তিনিই পুরো জেড-বেসিন (খনি) নিয়ন্ত্রণ করেন।
হপাকান্তের জেড খনিগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মিয়ানমারের অর্থনীতির একটি অদৃশ্য চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচিত। একইসঙ্গে কেআইএ ও অন্য বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর জন্যও এটি অর্থের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। দেশ বিদেশে জেড স্টোন বিক্রি করেই অস্ত্র কেনা ও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার খরচ বহন করছে এসব গোষ্ঠীগুলো।


