রাজধানীর হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডে হামলার ঘটনায় করা মামলার বাদিকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। তাকে ফোনে বলা হয় ২৪ ঘণ্টা সময়ের মধ্যে সমঝোতা না করলে ‘লাশ পড়ে থাকবে’। মামলার বাদী কুরিয়ার সার্ভিস কোম্পানিটির ব্যবস্থাপক আফসার উদ্দীনকে শুক্রবার রাত ১১টার দিকে পরিচয় না দিয়ে এক ব্যক্তি এমন হুমকি দেয়।
এর আগে, ২০ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাজারীবাগে এ জে আর পার্সেল অ্যান্ড কুরিয়ারের প্রধান ওয়্যার হাউজে সশস্ত্র হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এ সময় আলামত মুছে ফেলার জন্য সিসি ক্যামেরা, এনভিআরসহ গুরুত্বপূর্ণ মালামাল লুট করে নিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা। ঘটনার পরের দিন ২১ অক্টোবর হাজারীবাগ থানায় মামলা করে এ জে আর কুরিয়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ। মামলার পর অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ বিষয়ে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমি বাদীর সঙ্গে কথা বলেছি। বাদি হুমকিদাতার সঙ্গে কথোপকথনের অডিও পাঠিয়েছে। সেটি যাচাই করা হচ্ছে। হুমকিদাতা ফোনটি কোথা থেকে করেছে- সব বিষয়ে আমরা খোঁজ নিচ্ছি।’
হুমকির অডিওতে শোনা যায়, অজ্ঞাত ব্যক্তি সালাম দিয়ে আফসার উদ্দীনকে বলেন, ‘ভাই মামলার বাদি যে হলেন আপনার নিজের মামলার বাদি কে হবেন। এ সময় বাদি বলেন, কোনটা ভাই। জবাবে হুমকিদাতা বলেন, কোনটা আপনি বোঝেন না।’ এ সময় অজ্ঞাত ব্যক্তি অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে বলেন, এ জে আরের সঙ্গে কথা বলে শনিবারের মধ্যে যোগাযোগ করার ব্যবস্থা কর, না হলে লাশ পড়ে থাকবে। ২৪ ঘন্টার মধ্যে তোর লাশ রাস্তায় পড়ে থাকবে।’
এ সময় আফসার উদ্দিন–কে বলছেন জিজ্ঞেস করলে বলা হয়, ‘তোর বাপ বলছি, তোর কোনো বাপ থাকলে বাচাতে বলিস। তোর বাপের সঙ্গে কথা বলে ঝামেলা শেষ করতে বল। না হলে সবার আগে তোর লাশ পড়ে থাকবে। কিন্ত, তোর এ জে আর তোর ভেতরে দিয়ে দিব। শনিবার দিন সময় দিলাম। তুই ডিওএইচএস থাকস-না?! চার তালায় তোর বাসা সব জানি।’
আফসার উদ্দিন বলেন, ‘এটা তো প্রতিষ্ঠানের বিষয়, এটাতো আমার কাজ না, এটা প্রতিষ্ঠানের কাজ।’ পরে জবাবে বলা হয়, কালকের দিন শনিবার সময়, তোর কোনো বাপে তোকে বাঁচাতে পারবে না, তুই মামলার বাদি হলি কেন? তোর বাপের সঙ্গে কথা শেষ কর, না হলে তোর লাশ পড়ে থাকবে। তখন আফসার জিজ্ঞেস করেন আপনার নাম কি, নাম পরিচয় দেন না কেন? হুমকিদাতা বলেন- নাম ঠিকানা জানছ না, তোর কোন বাপে ফোন দিতে পারে। আফসার বলেন – আমি তো মালিক না, আমাকে বলেছে তাই মামলার বাদী হয়েছি। সন্ত্রাসী বলেন- তুই মালিক না, বাদী হলি কেন, সমাধান কর, না হয় তোর লাশ পড়ে থাকবে, তোকে কেউ বাঁচাতে পারবে না। কালকের দিনের মধ্যে যোগাযোগ করতে বল, না হলে তোর অবস্থা খারাপ হবে।’
এ ব্যাপারে হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, বিষয়টিকেও গুরুত্ব দিয়ে মামলার সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে। ওসি এর আগে ঘটনার হুকুমদাতা হিসেবে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ ইমন কাজ করেছেন বলে বলেছিলেন। হামলা, ভাংচুর ও চাঁদাবাজির মামলায় এখন পর্যন্ত পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য দিয়েছে।
এদিকে শনিবার সকালে হাজারীবাগ বেরিবাদের প্রধান সড়কে এ জে আর পার্সেল এন্ড কুরিয়ার সার্ভিস লিমিটেডের পার্সেলবাহী গাড়ি ভাঙচুরেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।


