বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ আরো তিন বছর পেছাতে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান।
মঙ্গলবার ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি বলেন, ‘আমাদের এলডিসি উত্তরণ তিন বছরের জন্য স্থগিত করতে বিষয়টি জাতিসংঘের প্রস্তাবে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।’
এ বিষয়ে ইতিবাচক ফলাফলের আশা করছেন জানিয়ে তিনি এটাও বলেন, ‘এই ধরনের প্রস্তাব প্রায়ই জাপান ও তুরস্কের মতো দেশগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়ে। তাই এবার আমরা তাদের সহযোগিতা নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।’
কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মাহবুবুর বলেন, বাংলাদেশ বেশ কিছুদিন ধরেই এলডিসি উত্তরণ পেছানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
‘যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের প্রভাব এবং এলডিসি উত্তরণ: বাংলাদেশের জন্য উদ্বেগ ও করণীয়’ শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করেছিল রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র্যাপিড)। কর্মশালায় র্যাপিডের চেয়ারম্যান এম এ রাজ্জাক, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আবু ইউসুফ এবং ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের সভাপতি দৌলত আক্তার মালা উপস্থিত ছিলেন।
১৯৭১ সালে এলডিসি ক্যাটাগরি চালু হয় এবং ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। বর্তমানে বিশ্বে ৪৪টি এলডিসিভুক্ত দেশ রয়েছে, যার বেশিরভাগই আফ্রিকায় অবস্থিত। একটি দেশের ঝুঁকি ও উন্নয়নমূলক প্রতিবন্ধকতার ওপর ভিত্তি করে এলডিসির মর্যাদা নির্ধারণ করা হয়।
২০২৬ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এই প্রক্রিয়াটি যেন কিছুটা বিলম্বিত করা যায় সে ব্যাপারেও জোর দেওয়া হচ্ছে।
বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কারণ সৃষ্ট রাজনৈতিক অস্থিরতার পর, বাংলাদেশের এই উত্তরণের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে ব্যবসায়ী নেতা ও বিশেষজ্ঞরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অন্যদিকে গত শনিবার প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী আনিসুজ্জামান চৌধুরী বলেছিলেন, এই উত্তরণে বিলম্ব করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের এলডিসি উত্তরণ প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার কোনো ইচ্ছা বা ক্ষমতা নেই।’
ব্যবসায়ী নেতা ও অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ছাড়া উত্তরণ হলে বাংলাদেশকে বিশ্ববাজারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণের পর, বাংলাদেশকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোর বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে দুই অংকের শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে। এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পোশাক রপ্তানির অর্ধেকই যায় এসব দেশে।
অন্যদিকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি থাকা ভিয়েতনামের মতো প্রতিযোগী দেশগুলো প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পাবে, কারণ বাংলাদেশ তার শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার হারাবে।
বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘আমরা পর্যাপ্ত সক্ষমতা তৈরির আগে এলডিসি উত্তরণের বিরোধিতা দীর্ঘদিন ধরেই করে আসছি।’
তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বাণিজ্য সুবিধা সহজীকরণ, শিল্পায়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, আর্থিক খাতের উন্নয়ন এবং সুশাসনের জন্য সক্ষমতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশকে মোটা অঙ্কের রয়্যালটি দিতে হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলবে।


