উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগের ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি মোকাবেলায় আসন্ন বাজেটে টেকসই অর্থায়ন ও ওষুধের নিরবিচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে দেশের শীর্ষ রোগের তালিকায় উচ্চ রক্তচাপ এক নম্বরে থাকলেও স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে, যা অত্যন্ত অপ্রতুল। সোমবার এক ওয়েবিনারে বক্তারা দ্রুত এই সংকট সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটর (জিএইচএআই) এর সহযোগিতায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা) এই ওয়েবিনার আয়োজন করে।
সভায় জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ‘হেলথ অ্যান্ড মরবিডিটি স্ট্যাটাস সার্ভে-২০২৫’ অনুযায়ী উচ্চ রক্তচাপ এখন দেশের প্রধান স্বাস্থ্য সমস্যা। বর্তমানে দেশে মোট মৃত্যুর ৭১ শতাংশই ঘটে অসংক্রামক রোগে। অথচ প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের অভাবে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ওষুধের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিটের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. মোঃ এনামুল হক বলেন, সকল কমিউনিটি ক্লিনিকে উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাজেট বরাদ্দ বাড়ানো দরকার। তিনি পরিকল্পিত ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বরাদ্দকৃত অর্থের কার্যকর ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক হিসেবে উল্লেখ করেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী। তিনি বলেন, টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে অকালমৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে কমানো সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ জানান, অর্থায়নের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য নীতি ও পরিকল্পনার কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি।
এসেনসিয়াল ড্রাগস্ কোম্পানী লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. রিয়াদ আরেফিন বলেন, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ পেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য নিরবিচ্ছিন্ন ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) সভাপতি দৌলত আকতার মালা বলেন, অসংক্রামক রোগে মৃত্যুর হার বেশি হলেও বরাদ্দ খুবই কম। তাই জনস্বার্থে এই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো দরকার।
প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রোগ্রাম অফিসার সামিহা বিনতে কামাল। আলোচক হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন জিএইচএআই-এর বাংলাদেশ কান্ট্রি লিড মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস এবং পাবলিক হেলথ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডা. আবু জামিল ফয়সাল। প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকসহ বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা এই আলোচনায় অংশ নেন।


