শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা

শ্রম মন্ত্রণালয়ের ১৮০ দিনের ‘রোডম্যাপ’ ঘোষণা
Advertisement
Advertisement

দেশের শ্রম খাতের আমূল পরিবর্তন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে ১৮০ দিনের এক বিশেষ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২২টি সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে, যা আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান সচিব ড. মোঃ সানোয়ার জাহান ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। কর্মশালায় মন্ত্রী জানিয়ে দেন, প্রতিটি কর্মসূচির অগ্রগতি প্রতি সপ্তাহে রিপোর্ট আকারে পেশ করতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোরভাবে ফলোআপ নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শ্রম আইন সংস্কারের অংশ হিসেবে আগামী ৩১ মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে ‘বাংলাদেশ শ্রম অধ্যাদেশ ২০২৫’-কে পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপান্তর করা হবে। এছাড়া ৩০ জুনের মধ্যে শিশুশ্রম ও জবরদস্তিমূলক শ্রম বন্ধে পৃথক আইন এবং শ্রম বিধিমালা প্রণয়ন সম্পন্ন করা হবে। একই সময়ে ‘ন্যাশনাল সোশ্যাল ডায়ালগ ফোরাম’ চালুর মাধ্যমে ত্রিপক্ষীয় আলোচনাকেও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হচ্ছে।

বেকারত্ব নিরসনে বড় পদক্ষেপ হিসেবে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে ‘কর্মসংস্থান অধিদপ্তর’ গঠন করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সরকারি এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালু করা হবে। পাশাপাশি জাতীয় কর্মসংস্থান কৌশলপত্র প্রণয়ন ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর সহায়তায় হালনাগাদ কর্মসংস্থান জরিপ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় গতি আনতে ৩১ মার্চের মধ্যে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের ১২২ জন কর্মচারীর নিয়োগ সম্পন্ন হবে। এছাড়া শ্রম অধিদপ্তর ও ন্যূনতম মজুরি বোর্ডের বিভিন্ন শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম মে মাসের মধ্যে শেষ করা হবে। মন্ত্রণালয়ের ১৩ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মচারীদের নিয়োগ প্রক্রিয়াও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সম্পন্ন করার প্রস্তুতি চলছে।

আরও পড়ুন

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে ৬৫টি অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের মধ্য থেকে উপযুক্ত খাত নির্বাচন করে ৩০ মে’র মধ্যে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হবে। হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্যানারি ও আয়রন ফাউন্ড্রি খাতের শ্রমিকদের জন্য নির্ধারিত মজুরি কাঠামো ৩০ জুনের মধ্যে কার্যকর করবে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।

শ্রমিকদের আইনি সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রেড ইউনিয়ন নিবন্ধন সহজীকরণ এবং শ্রম আদালতে মামলা জট কমাতে এডিআর (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) ব্যবস্থা প্রবর্তন করা হচ্ছে। নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তায় নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামের কালুরঘাটে কর্মজীবী মহিলা হোস্টেল চালু এবং রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় যৌন হয়রানি বিরোধী কমিটি গঠন করা হবে ৩০ জুনের মধ্যে।

সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় অন্তত তিনশ’ কোম্পানিকে শ্রমিক লভ্যাংশ তহবিলের (ডব্লিউপিপিএফ) অধীনে আনা এবং শ্রমিকদের আর্থিক সহায়তা কার্যক্রম ৩১ আগস্টের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া মাতৃত্বকালীন ছয় মাসের ছুটির ক্ষেত্রে চার মাস ছুটির পর বাকি দুই মাসের সমপরিমাণ ভাতা প্রদানের বিশেষ ব্যবস্থা কার্যকর হবে জুনের শেষ নাগাদ।

কর্মশালায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মোঃ নুরুল হকসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad