‘মানসিক রোগী’ দাবি করে ঢাবি ছাত্রীকে নির্যাতন, ফেসবুকে সাহায্যের আর্তি

‘মানসিক রোগী’ দাবি করে ঢাবি ছাত্রীকে নির্যাতন, ফেসবুকে সাহায্যের আর্তি
বেঁধে রাখা অবস্থায় ঢাবি ছাত্রী ও পরিবার থেকে পুলিশকে দেওয়া প্রেসক্রিপশন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক শিক্ষার্থীকে ‘মানসিক রোগী’ দাবি করে বেঁধে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাহায্য চাইলে বিষয়টি নজরে আসে সহপাঠী ও প্রশাসনের।

ভুক্তভোগীর নাম উম্মে সালমা। তিনি ঢাবির তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী এবং রোকেয়া হলের আবাসিক ছাত্রী। তিনি কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের দক্ষিণ পালাকাটা গ্রামের নিজ বাড়িতে এমন ঘটনার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

রোববার দিনগত রাত ১টা ২০ মিনিটে ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিরাপত্তা মঞ্চ’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে দেওয়া পোস্টে তিনি অভিযোগ করেন, তাকে জোরপূর্বক ‘পাগলের ওষুধ’ খাওয়ানো হয়েছে এবং দুই পা দড়ি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পরিবার তাকে পড়াশোনা করতে দিতে চায় না এবং জোর করে বাড়িতে আটকে রেখেছে।

পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার বড় ভাই শারীরিকভাবে নির্যাতন করেছেন এবং তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি লেখেন, পরিবারে নানা অস্বাভাবিক সম্পর্ক বিষয়ে জানার পর থেকেই তার ওপর নির্যাতন বাড়ে। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ঢাকায় ফিরে আসার জন্য সাহায্য চান।

আরও পড়ুন

ওই পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী ফোনে স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানান। পরে ঈদগাঁও থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে।

ঈদগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রুবেল আসাদুর জানান, নারী পুলিশ পাঠিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে তিনি নিরাপদে রয়েছেন।

তিনি টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেন, ‘বিষয়টি কিছুটা জটিল ও বিভ্রান্তিকর। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ওই শিক্ষার্থী মানসিকভাবে অসুস্থ এবং আত্মহত্যার প্রবণতা থাকায় তাকে আটকে রাখা হয়েছিল। এ বিষয়ে তারা কিছু চিকিৎসার প্রেসক্রিপশনও দেখিয়েছেন।’

ওসি আরও জানান, ভুক্তভোগীর সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। যদি তার অসুস্থতার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যথায় পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর