মব করে যুবককে হত্যা: ফেসবুক লাইভে জড়ো করায় মামলা, গ্রেপ্তার ২

মব করে যুবককে হত্যা: ফেসবুক লাইভে জড়ো করায় মামলা, গ্রেপ্তার ২
নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীম নামের এক ব্যক্তিকে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় ফেসবুক লাইভে তৌহিদী জনতা জড়ো করা ফজলুল হক আমিনীকে প্রধান করে ১০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ২০০-২৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে নিহতের বড় ভাই আব্দুল জলিল সানা বাদী হয়ে এ হত্যা মামলাটি দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার সুবর্ণবাদ গ্রামের মোস্তার হোসেন খাঁন (৫৩) ও একই উপজেলার নাজিরের ঘের এলাকার আছাদুল ইসলাম মোল্যা (৪৫)।

দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এইচ এম শহীন জানান, ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে দুই দফা গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই জলিল সানা বাদী হয়ে থানায় একটি হত্যা মামলা দাখিল করেছেন। এ মামলায় ইতিমধ্যে এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।

তিনি জানান, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যার আগে প্রথম দফা গণপিটুনির খবর পেয়ে শামীমকে উদ্ধার করে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে পুলিশ। পরে রাত ৯ টার দিকে ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে আবারো তৌহিদী জনতা মিছিল নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছে সেখানে তাকে দ্বিতীয় দফা গণপিটুনি দেয়। এরপর সেখান থেকে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেলে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গ্রেপ্তারের স্বার্থে এখনই বাকি আসামিদের নাম পরিচয় বলা সম্ভব হচ্ছে না বলে এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী ফেসবুকে লাইভে এসে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যার উদ্দেশ্যে তৌহিদী জনতা জড়ো করেছিলেন।

আরও পড়ুন

এদিকে, তার নেতৃত্বে দুই দফায় মারপিট করে শামীমকে হত্যা করা হয় বলে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গত দুই দিন ধরে ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত ওয়াহিদুজ্জামান শামীম (৪০) দেবহাটা উপজেলার বড় শান্তা গ্রামের মৃত. শামছুর রহমানের ছেলে। প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনী একই উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুলিয়া এলাকায় গ্রাম্য চিকিৎসক সবুরের চেম্বারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধান আসামি ফজলুল হক আমিনীর নেতৃত্বে তৌহিদী জনতা নামে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের ওপর হামলা চালানো হয়। অসুস্থ শামীম সেখানে চিকিৎসাধীন থেকেও তাদের হাত থেকে রেহাই পাননি।

স্থানীয়রা জানান, দেবহাটার ফজলুল হক আমিনী ফেসবুকে লাইভে এসে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমের বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আনার অভিযোগ এনে জনতাকে জড়ো হতে বলেন।

নিহতের ছোট ভাই জেলা রেফারি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ও সুবর্ণাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি তাহসিভ রহমান সাগর জানান, বুধবার রাতে এশার নামাজের পর শামীমের জানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তার দুটি ছেলে রয়েছে। বড় ছেলের বয়স ১২ বছর, ছোট ছেলের বয়স ৭ থেকে ৮ মাস।

মবের উস্কানিদাতা ফজলুল হক আমিনী নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বীকার করেছেন, তিনি ফেসবুক লাইভ ও পোস্ট দিয়ে ‘তৌহিদী জনতা’কে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দেন এবং উস্কানি ছড়িয়ে মানুষকে উত্তেজিত করেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি বলেন, প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করলে করবে এবং এর পরিণামে তার জেল-জুলুম বা ফাঁসি হলেও কোনো পরোয়া নেই।

তবে বৃহস্পতিবার রাতে মামলা দায়েরের পর থেকে ফজলুল হক আমিনী পলাতক রয়েছে বলে জানা গেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad