বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা গড়ে তুলতে সরকার প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি জানান, বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে।
তিনি বলেন, ‘সরকারের লক্ষ্য কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষার গুণগত মানে মৌলিক পরিবর্তন আনা। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, প্রশাসন, প্রযুক্তি এবং কারিকুলাম—সব ক্ষেত্রের সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভিডিও লেসন, স্মার্ট ক্লাসরুম, ফ্ল্যাট প্যানেল, তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন ব্যবস্থা এবং শিক্ষার্থীদের শেখার ঘাটতি শনাক্ত করে পুনরায় শেখানোর আধুনিক পদ্ধতি চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
সোমবার ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এলাকার কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে আগারগাঁও তালতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়মুখী করা, শেখার ঘাটতি দূর করা এবং বিশ্বমানের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এ লক্ষ্যে নতুন কারিকুলাম, সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা, প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ, বিনামূল্যে ইউনিফর্ম বিতরণ এবং বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে একযোগে কাজ চলছে।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত চার মাস ধরে তিনি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করছেন। রাজধানীর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি বিদ্যালয় আধুনিকায়নের চলমান ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্পের আওতায় কোথায় কী ধরনের ঘাটতি রয়েছে, তা সরেজমিনে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান না করলেও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপ, গল্প এবং বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শেখার অগ্রগতি মূল্যায়ন করা হয়েছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থী সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে থাকলেও কিছু শিক্ষার্থী নির্দিষ্ট বিষয়ে পিছিয়ে রয়েছে। তাদের শেখার ঘাটতি পূরণে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
‘বর্তমান কারিকুলামকে আরও সহজ, কার্যকর এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক করে পুনর্বিন্যাসের কাজ চলছে। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক পেশাগত উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, দায়িত্ব ও তদারকি এবং উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশিক্ষণ কাঠামোকে অন্তর্ভুক্ত করে একটি সমন্বিত শিক্ষক নীতিমালা প্রণয়নের কাজও এগিয়ে চলছে,’ যোগ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রাথমিক শিক্ষায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য আধুনিক, মানসম্মত ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় ঢাকা অঞ্চলের বিভাগীয় উপপরিচালক (প্রাথমিক শিক্ষা) মো. আবদুল আজিজ, ঢাকা জেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, বিভিন্ন থানার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা উপস্থিত ছিলেন।


