সুন্দরবনে চলমান বিশেষ অভিযানে গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৪২ জন বনদস্যুকে আটক এবং তাদের হাতে জিম্মি থাকা ৪১ জন জেলে ও বনজীবীকে জীবিত উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
একই সময়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। সবশেষ কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য অস্ত্রসহ আত্মসমর্পণ করেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ এবং ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
অভিযানে এ পর্যন্ত ৪৯টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০ রাউন্ড তাজা গোলা, ৩১৬ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ১০৮ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ১৯৪ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি এবং দুটি ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া এর আগে ছোট সুমন বাহিনীর সাত সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন।
কোস্ট গার্ড জানায়, ধারাবাহিক অভিযানে দস্যু বাহিনীগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ায় কুখ্যাত বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সক্রিয় সদস্য দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন।
এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বুধবার বিকালে বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সুন্দরবনের তাম্বুলবুনিয়া ফরেস্ট অফিসসংলগ্ন কলামুলি খাল এলাকায় বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ কোস্ট গার্ডের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এ সময় তাদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি দেশীয় পাইপগান, ৪০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ এবং একটি ওয়াকিটকি জব্দ করা হয়। পাশাপাশি তাদের জিম্মিতে থাকা এক জেলেকেও উদ্ধার করা হয়।
আত্মসমর্পণকারী তিনজন হলেন বাগেরহাটের মোংলা উপজেলার আলামিন হোসেন (৪০), সাতক্ষীরার তালা উপজেলার তৈবুর রহমান (২৪) এবং খুলনার কয়রা উপজেলার মনিরুজ্জামান মামুন (২০)। তারা দীর্ঘদিন ধরে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্য হিসেবে সুন্দরবনে ডাকাতি, জেলে ও বনজীবীদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড আরও জানায়, আত্মসমর্পণকারী দস্যুদের পুনর্বাসন, জব্দ করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংক্রান্ত আইনগত প্রক্রিয়া এবং উদ্ধার হওয়া জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে কোস্ট গার্ড সুন্দরবনের সক্রিয় সব দস্যুকে অস্ত্র ত্যাগ করে আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, যারা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবে, তাদের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


