জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে সাংবাদিকসহ অন্তত ১৩ জন আহত হয়েছে। পুরান ঢাকার মুরগিটোলা মোড়ে জুতা চুরিকে কেন্দ্র করে সোমবার রাত ১টার দিকে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন- আমার দেশ পত্রিকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক লিমন ইসলাম এবং দৈনিক সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি অপূর্ব রায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের এক শিক্ষার্থীর বাসা থেকে জুতা চুরির অভিযোগ ওঠে স্থানীয় বাসিন্দা মাইকেলের বিরুদ্ধে। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাকে শনাক্ত করে কয়েকজন শিক্ষার্থী আটক করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান। এ সময় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তাদের বাগবিতণ্ডা ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এর প্রতিবাদে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকশ শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলার অভিযোগে জড়িত স্থানীয়দের খুঁজতে থাকেন। অভিযুক্তরা একটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন- এমন দাবিতে তারা বাড়িটি ঘিরে রাখেন।
পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের নিরাপত্তার মধ্যে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করলে শিক্ষার্থীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েন। এতে অন্তত আটজন শিক্ষার্থী আহত হন বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
আহত সাংবাদিক অপূর্ব রায় জানান, তিনি ঘটনাস্থলে ছবি তুলছিলেন। এসময় এক পুলিশ সদস্য তার ওপর লাঠিচার্জ করেন। এতে তার পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আজহারুল ইসলাম বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে তার মাথায় আঘাত লাগে। পরে মাথায় তিনটি সেলাই দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর নাসির উদ্দিন জানান, তিনি সংঘর্ষের বিষয়টি জেনেছেন। শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে এবং এ বিষয়ে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলা হবে।
ঘটনার প্রতিবাদে রাত আড়াইটা থেকে সাড়ে ৩টা পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা মুরগিটোলা মোড় অবরোধ করেন। এতে সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
পরে পুলিশ জুতা চুরির অভিযোগে মাইকেল ও আসিকুর রহমান আশিক নামে দুজনকে আটক করে।
ডেমরা বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মীর মুহসীন মাসুদ বলেন, ‘জুতা চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ অভিযুক্তকে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে উদ্ধার করার চেষ্টা করলে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ তাকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ করতে বাধ্য হয়।’
এ ঘটনায় পাঁচজন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।


