কক্সবাজারের চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। গত পাঁচ দিনের অবিরাম বর্ষণ ও পাহাড় থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে তলিয়ে গেছে দুই উপজেলার বিস্তৃত এলাকার লোকালয়। এতে একদিনে পাহাড়ধসে ও পানিতে ডুবে চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোররাত থেকে বিকাল ৫টার মধ্যে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বন্যার পানি হু হু করে লোকালয়ে ঢুকে পড়ায় গ্রামের রাস্তাঘাট, উঠান এবং ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপাড়া এলাকায় পরিবারের অজান্তে উঠানে জমে থাকা বন্যার গভীর পানিতে পড়ে যায় আরিফুল ইসলামের ৩ বছরের শিশুসন্তান পুষ্প। অনুরূপভাবে, বিকাল ৫টার দিকে চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজ কাকারা এলাকায় সোলতান আহমদের ২ বছরের ছেলে ওয়াকিম ঘরের পাশে বন্যার পানিতে তলিয়ে যায়।
দুই শিশুকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
এর আগে বৃহস্পতিবার ভোরে চকরিয়া উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের মোহছেনিয়া কাটা পাহাড়ি গ্রামে ভারী বর্ষণের কারণে পাহাড়ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে একটি বসতঘরের ওপর পড়লে ঘুমন্ত অবস্থায় মাটিচাপা পড়ে দুই শিশু। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় মাটি সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
নিহতরা হলো বরইতলী দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী রুমি আক্তার, সে মোহাম্মদ কাজলের মেয়ে এবং স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ তৌসিফ, সে আবদুল মজিদের ছেলে। নিহতরা সম্পর্কে চাচাতো ভাই-বোন।
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, টানা বৃষ্টিতে একদিকে ভয়াবহ বন্যা, অন্যদিকে পাহাড়ধসের ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই দিন ধরে এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম সম্পূর্ণ পানির নিচে তলিয়ে আছে।
চকরিয়া ও নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার দায়িত্বরত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, বানের পানিতে ডুবে ও পাহাড়ধসে নিহত শিশুদের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতদের পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় স্থানীয় প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।


