কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষ: গণপিটুনিতে নিহত আরেক যুবক

কক্সবাজারে বারে সংঘর্ষ: গণপিটুনিতে নিহত আরেক যুবক
সোলাইমান ও নাজিবুল হক রাশেদ । ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

কক্সবাজার শহরের ঝাউতলা এলাকায় একটি হোটেলের মদের বারে কথা-কাটাকাটির জেরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আরও এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।

ছুরিকাঘাত ও ভাঙা বোতলের আঘাতে একজন নিহত হওয়ার পর অপরজনকে উত্তেজিত জনতা মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকায় রেনেসাঁ নামের একটি হোটেলের বারে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন শহরের মধ্যম নুনিয়াছড়া এলাকার নাজিবুল হক রাশেদ (২৮) এবং শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ সোলাইমান ওরফে সোলাইমান (২৯)।

কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী দুই যুবকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, নিহত রাশেদের মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

পুলিশ, বারের কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার রাতে কয়েকজন যুবক রেনেসাঁ হোটেলের বারে বসে মদ পান করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। পরে বাইরে থেকে আরও দুজন যুবক সেখানে আসেন। তারা বারের দোতলায় গিয়ে রাশেদের ওপর হামলা চালান। এ সময় তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়। পরে হোটেলের বাইরে নিয়ে এসেও তার ওপর ভাঙা বোতল দিয়ে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

আরও পড়ুন

এদিকে ঘটনার পর হামলায় জড়িত সন্দেহে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও মোহাম্মদ সোলাইমানকে আটক করে উত্তেজিত জনতা। পরে তাকে নিহত রাশেদের বাড়ি শহরের নুনিয়াছড়ার ফিশারিঘাট এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে কয়েক দফা মারধরের পর পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় বলে জানা গেছে।

পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর সোলাইমানকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। শুক্রবার সকাল ছয়টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও অপারেশন) মো. অহিদুর রহমান বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও বারে কর্মরত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তের জন্য ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হচ্ছে। আলামত সংগ্রহ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারটি বন্ধ রাখা হয়েছে।’

বারটির নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সেখানে প্রবেশের নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান। তিনি বলেন, ‘ঘটনায় জড়িতরা স্থানীয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। মদ্যপানের লাইসেন্স ছাড়া কাউকে মদ বিক্রি করার নিয়ম নেই।’

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। পাশাপাশি বারের নিরাপত্তাব্যবস্থা, মদ বিক্রির নিয়মনীতি এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad