৩৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা ব্যয়ে দ্বিতীয় ইউনিট সম্প্রসারণ, অতিরিক্ত সংরক্ষণ সুবিধা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো স্থাপনের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা তিন গুণ বাড়াতে যাচ্ছে।
প্রকল্পটি মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি একনেকের সভায় উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড দেশের সবচেয়ে পুরোনো ও বৃহত্তম পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি, যার বার্ষিক পরিশোধন সক্ষমতা ১৫ লাখ টন আমদানি করা অপরিশোধিত তেল এবং বর্তমানে এটি জাতীয় পেট্রোলিয়াম পণ্যের চাহিদার প্রায় ২০ শতাংশ পূরণ করে।
প্রস্তাবিত প্রকল্পের আওতায় বিদ্যমান রিফাইনারির পাশে একটি দ্বিতীয় প্রসেসিং ইউনিট স্থাপন করা হবে এবং একই সঙ্গে সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো হবে, যা রিফাইনারির সামগ্রিক কার্যক্রমের পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে এবং জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তায় অবদান জোরদার করবে।
নতুন ইউনিটে আরও ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা যুক্ত হলে, ২০৩০ সালের নভেম্বর প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর ইস্টার্ন রিফাইনারি দেশের মোট পেট্রোলিয়াম পণ্যের প্রায় অর্ধেক চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে।
পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার পাশাপাশি আধুনিক ইউনিটটি ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করবে, যা জ্বালানির মান উন্নয়ন এবং পরিবেশগত পারফরম্যান্স বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।
বছরে ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের মাধ্যমে নতুন ইউনিটটি প্রতি বছর আনুমানিক ১১ লাখ টন ডিজেল, ৬ লাখ টন গ্যাসোলিন, ৫ লাখ টন জেট ফুয়েল, দেড় লাখ টন বিটুমিন, ৬০ হাজার টন এলপিজি, ৪ লাখ টন ফার্নেস অয়েল, ২ লাখ টন লুব বেজ অয়েল এবং প্রায় ৩৩ হাজার টন সালফার উৎপাদনে সক্ষম হবে।
উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, তুলনামূলক কম দামের ভারী অপরিশোধিত তেলের সঙ্গে বেশি দামের হালকা অপরিশোধিত তেল মিশিয়ে পরিশোধনে সক্ষম আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে প্রতি ব্যারেলে ১৮ থেকে ২০ ডলার সাশ্রয় হবে।
মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ধরা হয়েছে ২১ হাজার ২৭৭ কোটি টাকা এবং ইস্টার্ন রিফাইনারির নিজস্ব অর্থায়ন ধরা হয়েছে ১৪ হাজার ১৮৭ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের পতেঙ্গায় ইস্টার্ন রিফাইনারির বিদ্যমান প্রাঙ্গণে ৬৪ দশমিক ১২৭ একর দীর্ঘমেয়াদি লিজ নেওয়া জমিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে, যেখানে সব পেট্রোলিয়াম বিপণনকারী কোম্পানির সঙ্গে সংযুক্ত পাইপলাইন নেটওয়ার্ক বিদ্যমান থাকায় কম সময় ও কম খরচে জ্বালানি বিতরণ সম্ভব হবে।
এদিকে, গভীর সমুদ্রের ভাসমান টার্মিনালে বড় জাহাজ থেকে অপরিশোধিত তেল খালাস করে পাইপলাইনের মাধ্যমে ইস্টার্ন রিফাইনারি স্থাপনায় বছরে ৪৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনের সক্ষমতা ইতোমধ্যে অর্জন করেছে বাংলাদেশ।
ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় রিফাইনারি ইউনিটে ২০টি প্রসেসিং ইউনিট, ১৮টি ইউটিলিটি ও অফসাইট ইউনিট এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ সুবিধা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
প্রকল্পটি টার্নকি ইঞ্জিনিয়ারিং, প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন মডেলে বাস্তবায়ন করা হবে, যেখানে একক ঠিকাদার নির্মাণ, কমিশনিং এবং প্রকল্প হস্তান্তর পর্যন্ত সম্পূর্ণ দায়িত্ব পালন করবে।
শুরুতে ইস্টার্ন রিফাইনারি ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিলেও পরিকল্পনা কমিশনের নির্দেশনার পর মোট ব্যয় কমিয়ে আনা হয় এবং ২৬ নভেম্বর তা প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির অনুমোদন পায়।


