৮ বছরেও সংরক্ষিত হয়নি ইলা মিত্রের বাড়ি

৮ বছরেও সংরক্ষিত হয়নি ইলা মিত্রের বাড়ি
ইলা মিত্রের পৈতৃক ভিটা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সংগ্রামী কৃষক নেতা এবং তেভাগা আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ইলা মিত্রের ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের পৈতৃক বাড়ি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ২০১৭ সালে। আট বছরেও আলোর মুখ দেখেনি সে উদ্যোগ।

স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, জাতীয় মুক্তি ও গণমানুষের মুক্তির লড়াইয়ে অগ্রগামী ভূমিকায় থাকা এই নারী পরিচিত ছিলেন দরিদ্রের ‘রাণী মা’ হিসেবে। তেভাগা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে ইলা মিত্র ব্রিটিশ সরকারের রোষানলে পড়ে ধর্ষণ এবং ব্যাপক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হন।

সে সময় তাকে গ্রেপ্তার করে কারাবন্দিও করা হয়। পরে ১৯৪৭ সালে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে বাড়িঘর-সম্পত্তি সব ফেলে তার পুরো পরিবার ভারতে চলে যায়।

তখনই ইলা মিত্রের পৈতৃক ভিটার দখল নেন কিয়াম উদ্দিন বিশ্বাস নামের এক ব্যক্তি। বাড়িটিতে এখনও বসবাস করছেন কিয়াম উদ্দিন বিশ্বাসের উত্তরাধিকাররা। আর ফেলে যাওয়া শত শত বিঘা জমি-সম্পত্তি চলে যায় স্থানীয়দের দখলে।

বর্তমানে বাড়িটি ভোগ-দখলে থাকা কিয়াম উদ্দিন বিশ্বাসের নাতি আবু বকর বিশ্বাস দাবি করেন, এই সম্পত্তি তার দাদা কিনেছিলেন এবং উত্তরাধিকার সূত্রে তারা বসবাস করছেন।

আরও পড়ুন

ইলা মিত্রের বাড়ি
ইলা মিত্র। ছবি: সংগৃহীত

বাগুটিয়া গ্রামের বাসিন্দা রুস্তম আলী খন্দকার(৭৪) জানান, আশপাশের মৌজায় ইলা মিত্র পরিবারের প্রায় এক হাজার বিঘা জমি রয়েছে। যার সবই অন্যদের দখলে। তার পরিবার ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর ভারতে চলে যায়। কিয়াম উদ্দিন বিশ্বাস ১৯৭১ সালের পরে তার পরিবার নিয়ে এই বাড়িতে বসবাস শুরু করেন।

ইলা মিত্রের শৈশবের স্মৃতি মাখা ওই বাড়িটি দখলদাররা গরুপালনসহ নানাভাবে ব্যবহার করায় প্রায় ধ্বংসের মুখে পড়েছে। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তারা ও দেয়ালের ইট। ছাদে জন্মেছে অজস্র আগাছা।

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা স্নিগ্ধা দাস বলেন, ‘২০১৭ সালে পুরাকীর্তি বিভাগ বাড়িটি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছিল। পরে আর এই বিষয়ে কোন নির্দেশনা আমাদের দেয়নি। ফলে সেখানেই থেমে আছে উদ্যোগ।’

১৮ অক্টোবর ইলা মিত্রের শততম জন্মবার্ষিকী। ১৯২৫ সালের এই দিনে ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার বাগুটিয়া গ্রামের নগেন্দ্রনাথ সেনের কলকাতার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৪৫ সালে নাচোলের জমিদারপুত্র রমেন্দ্র নাথ মিত্রের সঙ্গে বিয়ের পর ইলা মিত্র নামেই পরিচিতি পান এই সংগ্রামী নারী।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস ন্যাশনাল
টাইমস ন্যাশনাল

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর