শেষবারের মতো অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন সর্বস্তরের জনগণ। সোমবার শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য তার মরদেহ প্রথমে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে নেওয়া হয়।
সেখান থেকে সর্বস্তরের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখান থেকে তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে।
এরপর দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হবে এবং সেখানেই শেষ শয্যায় শায়িত হবেন তিনি।
এর আগে রোববার বিকালে মিরপুরের একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাংলা একাডেমির সভাপতি আবুল কাসেম ফজলুল হক। তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
স্বজনরা জানান, দুপুরে মিরপুরের একটি রেস্তোরাঁয় খেতে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সেখানকার একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানেই বিকালে তিনি মারা যান।
আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কর্মজীবনে তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন। ১৯৮১ সালে তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার পেয়েছেন।
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ‘সুন্দরম’ ও ‘লোকায়ত’ নামে দুটি সাময়িকপত্রের সম্পাদনা করেছেন। ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন’, ‘রাজনীতি দর্শন’, ‘সাহিত্য চিন্তা’, ‘সংস্কৃতির সহজ কথা’সহ তার ২০টির বেশি বই প্রকাশিত হয়েছে। এছাড়াও তার সম্পাদনায় প্রকাশ হয়েছে ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’, ‘স্বদেশচিন্তা’-এর মতো একাধিক গ্রন্থ।


