বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী প্রার্থী তালিকা দ্রুত চূড়ান্ত করার জন্য শীর্ষ স্থানীয় নেতাদের দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চলতি মাসের মধ্যে প্রাথমিকভাবে একক প্রার্থী বাছাই করার নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
সোমবার রাতে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এমন নির্দেশনা দেন তারেক রহমান।
বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, এতে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের ব্যাপারে ঐকমত্য হওয়া, বিবিসি বাংলায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সাক্ষাৎকার দেওয়া এবং তার দেশে ফেরার যাবতীয় প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়।
স্থায়ী কমিটির বৈঠক রাত পৌনে ৯টায় শুরু হয়ে সাড়ে ১১টায় শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েস্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, আব্দুল মঈন খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও জাহিদ হোসেন।
খুব শিগগিরই তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরবেন বলেও স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতাদের জানিয়েছেন। তিনি জানান, দেশে ফিরে আসার ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্ততিও নিচ্ছেন। আগামী নভেম্বর মাসে তারেক রহমান দেশে ফিরবেন বলে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন এমন এক নেতা জানিয়েছেন।
ওই বৈঠকে তারেক রহমান বলেছেন, তার মতে, প্রত্যেক আসনে দলের যোগ্য একাধিক প্রার্থী রয়েছেন এবং যেসব আসনে একক প্রার্থী চুড়ান্ত করা কঠিন হবে। দলের সব প্রার্থীকে ডেকে আলোচনা সাপেক্ষে এবং তৃণমুল নেতাদের কাছ থেকে মতামত নেওয়ার কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি তিনি এলাকায় জরিপ চালিয়ে যোগ্য নেতার মধ্যে থেকে প্রার্থী চুড়ান্ত করার নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রার্থী চুড়ান্তের পরই আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগে নামবেন। তবে একক প্রার্থীর বাইরে কোনো নেতা নির্বাচনে প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিস্কার করা হবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গ ছাড়াও ওই বৈঠকে দলের সাংগঠনিক অবস্থা আরো শক্তিশালী করার বিষয়ও আলোচনা হয়। এ পর্যন্ত প্রায় দুইশ’ আসনে প্রার্থী প্রাথমিকভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। যেসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীর আশঙ্কা আছে, সেখানে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পর্যন্ত বিষয়টি দেখা হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপির কেন্দ্র থেকে তৃণমুল পর্যায়ের সব নেতাকর্মীকে আগামী নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে। তিনি শিগগিরই সারাদেশে একক প্রার্থী নিয়ে নির্বাচনী এলাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে গণসংযোগ করতেও বলেন। তবে সমাবেশের মাধ্যমে নয়, প্রয়োজনে চার-পাঁচ জনের ছোট ছোট টিম গঠন করে প্রত্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তার মতে, এমনভাবে গণসংযোগ করতে হবে যেন আগামী এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিরোধী প্রতিপক্ষদের মোকাবেলা করা সম্ভব হয়।


