শিক্ষা, গবেষণা, উদ্ভাবন, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সুশাসনকে জাতীয় বাজেট বাস্তবায়নের কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদেরা।
তারা বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর নীতি বাস্তবায়নের পাশাপাশি জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি গড়ে তুলতে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়নে আরও কৌশলগত বিনিয়োগ প্রয়োজন।
মঙ্গলবার গ্রিন ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিন বিজনেস স্কুল (জিবিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশের জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭: পর্যালোচনা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পূর্বাচল আমেরিকান সিটিতে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ক্যাম্পাসের কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে শিক্ষক, গবেষক, শিক্ষার্থী, নীতিনির্ধারণে আগ্রহী অংশীজন এবং গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের ডিন মোহাম্মদ তারেক আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আলোচনায় অংশ নেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এবং ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির লার্নিং অ্যান্ড টিচিং ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মো. গোলাম সামদানী ফকির।
সেমিনারের শুরুতে বিবিএ শিক্ষার্থী ফয়সাল বিন আবির ও তাহমিদ ফেরদৌস জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭-এর ওপর একটি গবেষণাভিত্তিক উপস্থাপনা পেশ করেন।
এতে প্রস্তাবিত বাজেটের আকার, প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যমাত্রা, রাজস্ব আহরণ, খাতভিত্তিক বরাদ্দ, বিনিয়োগ, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, প্রবাসী আয়, জননিরাপত্তা এবং কৃষিখাতের অগ্রাধিকার বিষয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরা হয়।

গ্রিন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মোহাম্মদ শরীফ উদ্দিন বলেন, ‘টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিখাতে কার্যকর বিনিয়োগের কোনো বিকল্প নেই। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, গবেষণা-সংস্কৃতি বিকাশ, নৈতিক মূল্যবোধ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।’
প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি ফাহমিদা খাতুন বলেন, কোভিড-পরবর্তী বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বহুমাত্রিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি।
এ পরিস্থিতিতে তিনি ব্যাংকিং খাতের সংস্কার, খেলাপি ঋণ হ্রাস, আর্থিক সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধিমুখী নীতি গ্রহণকে সময়ের দাবি হিসেবে উত্থাপন করেন।
শিক্ষাবিদ মো. গোলাম সামদানী ফকির বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রতিযোগিতামূলক অর্থনীতি গড়ে তুলতে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন, গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে তোলার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
গ্রিন বিজনেস স্কুলের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, জাতীয় বাজেট কেবল আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি দেশের উন্নয়ন দর্শন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের প্রতিফলন।
জাতীয় বাজেটকে ঘিরে এ ধরনের গবেষণাভিত্তিক অ্যাকাডেমিক সংলাপ শিক্ষার্থীদের নীতি বিশ্লেষণ, সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং গবেষণামুখী দক্ষতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি ভবিষ্যতেও সমসাময়িক জাতীয় ইস্যু নিয়ে জ্ঞানভিত্তিক আলোচনা ও গবেষণাকে উৎসাহিত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সেমিনারের শেষভাগে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীরা জাতীয় বাজেটের সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে অতিথিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করেন। অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথিদের সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।


