তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: দীপকে ৮ কারণে ফের রিমান্ডে চায় পুলিশ

তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: দীপকে ৮ কারণে ফের রিমান্ডে চায় পুলিশ
তাহসিফ হত্যায় সন্দেহভাজন দ্বীপকে আদালতে নেওয়া হচ্ছে। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির (২৭) মৃত্যুর ঘটনায় সন্দেহভাজন আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে (২৩) আরও আট কারণে ফের রিমান্ডে চায় পুলিশ।

তাহসিফ হত্যা মামলায় প্রথম দফায় চার দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে দীপকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করে পুলিশ। একই সঙ্গে মামলার রহস্য উদঘাটন, হত্যাকাণ্ডের স্থান শনাক্ত ও জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারসহ আটটি কারণ দেখিয়ে তাকে ফের সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ আবেদন করেন। তথ্যটি নিশ্চিত করেন রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটটি কারণ উল্লেখ করেছেন। সেগুলো হলো- সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, বারে অবস্থানকালে যোগাযোগ, মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড বিশ্লেষণ, হত্যার রহস্য উদঘাটন, অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, আলামত উদ্ধার, হত্যার উদ্দেশ্য অনুসন্ধান ও হত্যাকাণ্ডের স্থান শনাক্ত।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ জানিয়েছেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি তাহসিফকে তার বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান। পরে তাহসিফ, দীপ ও মামলার আরেক সন্দিগ্ধ আসামি জেরিকা তাসনিম দিশা (১৯) একসঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করেন। একপর্যায়ে দিশা বাসায় চলে যান।

দীপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ অক্টোবর রাত ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে তাহসিফ ও তিনি টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান। সেখান থেকে বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদীর তীরবর্তী একটি মাঠে যান। পরে মাঠে কয়েকজন লোকজনের উপস্থিতি দেখে তারা আলাদা হয়ে যান বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন দীপ।

তাহসিফের সঙ্গে সন্দেহভাজন দীপ। ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে নেওয়া

 

আরও পড়ুন

তদন্ত কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, জিজ্ঞাসাবাদে দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। সেগুলো তদন্তের স্বার্থে গোপন রেখে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তবে তিনি অত্যন্ত কৌশলে কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ঘটনার আগে তাহসিফকে দীপ ও দিশার সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা এবং রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে দেখা গেছে। তদন্তে এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর আগে সবশেষ ওই দুজনের সঙ্গেই তাহসিফের দেখা হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

রিমান্ড আবেদন অনুযায়ী, বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ দীপকে দেখিয়ে তার উপস্থিতি ও চলাচলের তথ্য যাচাই-বাছাই এবং বিশ্লেষণ করা, তাহসিফের সঙ্গে নেস্ট বার অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে অবস্থানকালে দীপ কিছু সময়ের জন্য অন্যত্র সরে গিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট কোথায় এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, তা শনাক্ত করা প্রয়োজন। এ ছাড়া তাহসিফ, দীপসহ সংশ্লিষ্ট অন্যদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস রেকর্ড (সিডিআর) সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করা, তাহসিফকে হত্যার সম্ভাব্য উদ্দেশ্য বা মোটিভ, কোথায় এবং কীভাবে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন।

মামলার তদন্ত এখনো চলমান থাকায় দীপকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হলে তিনি পলাতক হয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলেও উল্লেখ করেন তদন্ত কর্মকর্তা।

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর থেকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ।

ছবি: সিসিটিভি ফুটেজ থেকে সংগৃহীত

এরপর গত  রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেনের আদালত  তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় তার ‘বান্ধবী’ দিশাকে চারদিনের রিমান্ড দেন।  রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা ফিরোজ উদ্দিন উল্লেখ করেন, গত ২৭ অক্টোবর রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে যান দিশা। সেখানে তারা প্রায় দেড় ঘণ্টা ছিলেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্থানে তাদের একসঙ্গে যাতায়াতের দৃশ্য সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের তথ্যও রয়েছে।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে তাহসিফকে ডেকে নিয়ে বাইরে যান সন্দেহভাজন আসামি দীপ। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে উত্তরখান থানার রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয় এবং সঙ্গে থাকা হাতঘড়ি ও পকেটে থাকা আইফোনের সূত্র ধরে তাহসিফ সাউরির পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

২৯ অক্টোবর দুপুর আড়াইটার দিকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে তার মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের মসজিদে জানাজার নামাজ শেষে রাজধানীর উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরের কবরস্থানে তাহসিফ সাউরিকে দাফন করা হয়।

 

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad