চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন হত্যা মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে ঢাকার ভাটারা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
এ ছাড়া মামলার আরেক আসামি মো. আরমানকে কুমিল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই দিনে চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার মামলার আসামি মো. আলম পাইককেও চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে এসআরবি-৭, চট্টগ্রাম। এসআরবির চট্টগ্রাম ও অন্যান্য ইউনিটের যৌথ অভিযানে এসব গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটে।
এসআরবির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৭ অক্টোবর রাত পৌনে ১০টার দিকে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় আবু ইউসুফ ওরফে জীবনকে (২৭) ছুরিকাঘাত করা হয়।
এ সময় লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান জিল্লুর রহমান জুয়েলসহ কয়েকজন। এতে জীবনের ডান পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে গোড়ালি পর্যন্ত গুরুতর জখম হয়। হামলার পর তাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে পালিয়ে যান অভিযুক্ত ব্যক্তিরা।
পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৯ অক্টোবর তার মৃত্যু হয়।
নিহত জীবন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার মুদাফর গ্রামের গোলাম নবীর ছেলে। তিনি পরিবার নিয়ে বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় থাকতেন। শেরশাহ এলাকার একটি আইসক্রিম কারখানায় দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।
এসআরবি জানিয়েছে, ঘটনার তিন থেকে চার মাস আগে জুয়েলের সঙ্গে রাজনীতিতে যুক্ত হন জীবন। পরে রাজনৈতিক পক্ষ পরিবর্তন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। এর জেরে জীবনকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি এসআরবির।
এ ঘটনায় জীবনের মা বাদী হয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২৫ থেকে ৩০ জনকে আসামি করে মামলা করেন। ২৮ অক্টোবর করা ওই মামলায় প্রথমে হত্যাচেষ্টাসহ বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়। পরে মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়।
এসআরবি জানিয়েছে, তথ্যের ভিত্তিতে মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আরমানের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ১ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া সাতটার দিকে কুমিল্লা কোতোয়ালী থানার ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আরমানের বাড়ি চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বার্মা কলোনি এলাকায়।
অন্যদিকে, সোমবার রাত সোয়া দুইটার দিকে ঢাকার ভাটারা থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার প্রধান আসামি জিল্লুর রহমান জুয়েলকে গ্রেপ্তার করে এসআরবির আরেকটি যৌথ দল। জুয়েল বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া এলাকার বাসিন্দা।
এদিকে নগরের চান্দগাঁও থানায় মো. হাসান হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আলম পাইককেও গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-৭। সোমবার দুপুর ১টা ১০ মিনিটে চান্দগাঁও থানার আরকান সড়কে চাঁদগাঁও হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সামনে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, নগরে চুরির অভিযোগে মো. হাসানকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় ২৬ অক্টোবর মামলা হয়। ওই মামলায় আলম পাইক এজাহারভুক্ত আসামি। তার বাড়ি বাগেরহাট সদর উপজেলার হরিখানা এলাকায়।
এসআরবি জানিয়েছে, গ্রেপ্তার তিন আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।


