ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করবে র‍্যাব

ভোটকেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করবে র‍্যাব
চট্টগ্রামে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে কোনো কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করবে র‍্যাব। সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে বাহিনীর সব সদস্য প্রস্তুত আছে বলে জানিয়েছেন র‍্যাব-৭ (পতেঙ্গা) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের ভেতরে পরিস্থিতি যদি প্রিসাইডিং অফিসারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তিনি সেটি রিটার্নিং অফিসারকে জানালে সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।

বুধবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রামের এনায়েত বাজার মহিলা কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সার্বিক নিরাপত্তা ও টহল কার্যক্রম জোরদার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজুর রহমান জানান, চট্টগ্রামের ২০টি আসনে র‍্যাবের অর্ধশতাধিক টহল টিম দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর পোস্টে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

নির্বাচনের দিন কেউ অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে না উল্লেখ করে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনের পর থেকে র‍্যাব-৭ ১০৬টির বেশি আগ্নেয়াস্ত্র এবং থানা লুট হওয়া অর্ধশতাধিক অস্ত্র উদ্ধার করেছে। এছাড়া হত্যা মামলার সাড়ে তিন শতাধিক এবং বড় ও মধ্যম মানের দুই হাজারের বেশি আসামিকে আটক করা হয়েছে।

ভোটকেন্দ্রের ভেতরে সম্পূর্ণ নিরাপদ পরিবেশ থাকবে জানিয়ে হাফিজুর রহমান বলেন, দায়িত্বে থাকা অন্তত দুইজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে বডি-ওর্ন ক্যামেরা সংযুক্ত থাকবে। এছাড়া আনসার সদস্য ও প্রিসাইডিং অফিসাররা দায়িত্ব পালন করবেন।

এ ছাড়া কেন্দ্রের বাইরে মানুষের উপস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পুরো এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে। কেউ চাপ প্রয়োগ বা অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।

দ্বীপাঞ্চলে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর সর্বোচ্চসংখ্যক ফোর্স মোতায়েনের কথা জানিয়ে এ র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, সমতলের তুলনায় দ্বীপ এলাকায় দেড়গুণ বেশি ফোর্স থাকবে। দুর্গম ও পাহাড়ি এলাকাও কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

একই সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে একাধিকবার সমন্বয় সভা হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে।

রাউজানে সাম্প্রতিক কয়েকটি হত্যা ও গুলির ঘটনায় যে আতঙ্ক ছিল, তা এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, নির্বাচনের দিনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে।

সন্ত্রাসী রায়হানকে কোনো প্রার্থীর সঙ্গে দেখা যাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাকে দেখামাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো উচিত ছিল। শুধু সে নয়, যেকোনো সন্ত্রাসীকে ধরতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’

এ সময় ভোটারদের সতর্ক করেন র‍্যাব-৭ পতেঙ্গার অধিনায়ক। তিনি জানান, কারও প্রভাবে ভোট দেবেন না। কেউ বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বা ভয়ভীতি প্রদর্শন করলে বাকবিতণ্ডায় না জড়িয়ে নিরাপদ স্থানে সরে গিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে হবে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যদের পাওয়া যাবে।

সব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাইবার টিম সক্রিয় রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ফেক আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি জানান, জঙ্গল সলিমপুর এলাকার দুটি কেন্দ্রের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে র‍্যাব বিশেষ নজর রাখবে। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

র‍্যাব-১০

কোন কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য জানা মাত্রই ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে র‍্যাব-১০। বুধবার বিকাল ৩ টার দিকে র‍্যাব-১০ লালবাগ ক্যাম্পের কোম্পানী কমান্ডার তানভীর হাসান শিথিল এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ‘নির্বাচন সুরক্ষা’ নামের অ্যাপের সাহায্যে প্রত্যেক প্রিসাইডিং অফিসার তার কেন্দ্রের তথ্য র‍্যাবকে অবহিত করবেন।

তিনি বলেন, ‘পরীক্ষামূলকভাবে আমাদের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। কোন কেন্দ্রের অনিয়মের তথ্য থাকলে অ্যাপে জানানো মাত্রই আমরা ব্যবস্থা নেব।’

র‍্যাব-১০ এর অধীনে ঢাকা-৬ ও ঢাকা-৭ আসনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে জানিয়ে তানভীর হাসান বলেন, ‘প্রত্যেকটা কেন্দ্রে ফোর্স থাকবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ড্রোন ও ডগ স্কোয়াড থাকবে। সব কেন্দ্র পর্যবেক্ষণের আওতায় আছে। যেকোন ধরনের গুজব ও নাশকতা মূলক কর্মকান্ড বানচাল করতে আমরা প্রস্তুত আছি এবং আমাদের সেই সক্ষমতা আছে।’

ভোট শুরু থেকে গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত র‍্যাব সদস্যরা মাঠে থাকবেন বলেও জানান তিনি। র‍্যাবের পাশাপাশি নির্বাচনে পুলিশ, আনসার বাহিনী ও বিজিবি প্রাথমিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তারা কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হলে র‍্যাব ও সেনাবাহিনী পদক্ষেপ নেবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
টাইমস রিপোর্ট
টাইমস রিপোর্ট

Staff Reporter, Times of Bangladesh

সম্পর্কিত খবর