টাইফয়েড টিকাদান শতভাগ নিশ্চিত করতে বললেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা

টাইফয়েড টিকাদান শতভাগ নিশ্চিত করতে বললেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা
টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫ এর জাতীয় অ্যাডভোকেসি সভায় স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশে এখনও টাইফয়েডে শিশুমৃত্যু মোটেও কাঙ্ক্ষিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম। তিনি বলেন, ‘ডায়রিয়া, রাতকানা রোগসহ অনেক রোগ আমরা প্রতিরোধ করেছি। অথচ টাইফয়েডে এখনও দেশের শিশু মারা যায়, অঙ্গহানী হয়। তবে, দেরিতে হলেও আমরা টাইফয়েডের টিকাদান শুরু করেছি। টাইফয়েড টিকা প্রদান ও প্রাপ্তি শতভাগ নিশ্চিত করতে হবে। আশা করি সফল হবো।’

মঙ্গলবার শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন সেন্টারে ‘টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন ২০২৫’ এর জাতীয় অ্যাডভোকেসি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, টাইফয়েড জ্বর থেকে শিশুদের সুরক্ষিত রাখতে রোববার থেকে সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে। পাঁচ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার টার্গেট রয়েছে। নয় মাস থেকে ১৫ বছরের কম যেকোনো শিশু এই টিকা দিতে পারবে।

প্রচার-প্রচারণার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমার ঘরে আমি এটির কোনো লক্ষণ পাইনি। নাতি-নাতনি আছে, কাজের লোকেরও বাচ্চা আছে। কেউ বলল না। তার মানে আমরা সব ঘরে পৌঁছতে পারিনি। আমাদের নৈতিক দায়িত্ব একটি শিশুও যাতে বাদ না যায়। জন্ম সনদ থাকুক না থাকুক, সবাইকে সুযোগ দিতে হবে। প্রচার-প্রচারণা আরও বাড়াতে হবে। এই কর্মসূচির মধ্যদিয়ে যাত্রা শুরু হলো। আশা করি, আমরা আমাদের সন্তানদের রক্ষা করতে পারব। সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) মাধ্যমে সাফল্য আসবে।’

আরও পড়ুন

‘স্বাস্থ্যখাতে আমাদের সবচেয়ে সফল কর্মসূচি হলো টিকাদান কর্মসূচি। টাইফয়েডও হয়ত রেগুলার টিকাদান কর্মসূচিতে ঢুকবে৷ আমরা টিকাদানে সক্ষম জনশক্তি বাড়াতে চাই। এজন্য মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী এবং ইন্টার্নদের সংযুক্ত করা যেতে পারে’ বলে জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ডা. সায়েদুর রহমান।

স্বাস্থ্য সচিব মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে আরও আলোচনা করেন- স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আবু জাফর, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব এ টি এম সাইফুল ইসলাম, এনজিও ব্যুরোর মহাপরিচালক দাউদ মিয়া এবং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, ইউনিসেফের দীপিকা শর্মা ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ডেপুটি রিপ্রেজেনটেটিভ রাজেশ নরওয়ানসহ বিদেশি প্রতিনিধি, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের টিকাদান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের এই পুরো প্রক্রিয়াতে সহযোগিতা করছেন- গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনস অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন (গাভি) এবং ইউনিসেফ। এরই মধ্যে প্রায় দুই কোটি নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে। টিকাদানের সময় নিবন্ধন ছাড়া কোনো  শিশু আসলেও টিকা পাবে। তবে, নিবন্ধনে উৎসাহিত করছে কর্তৃপক্ষ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর