পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়িতে টানা চারদিনের অবরোধের পর বুধবার ভোর থেকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে ফিরছে জনজীবন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সকালেই দূরপাল্লার কিছু কিছু গাড়ি ছেড়ে গেলেও সব পরিবহনের বাস চলাচল পুরোদমে শুরু হয়নি। বাস কাউন্টারগুলোতে যাত্রী উপস্থিতি বেড়েছে। শহর ও শহরতলীতে যানবাহন চলাচলও সীমিতভাবে শুরু হয়েছে।
চারদিন পর শহরের দোকানপাটগুলো খুলতে শুরু করেছে।
তবে জেলা সদর, পৌরসভা ও গুইমারা উপজেলায় প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা বহাল রয়েছে।

অবরোধ না থাকলেও খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা অব্যাহত আছে। সেনা টহলের পাশাপাশি বিজিবি ও পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে।
এদিকে, খাগড়াছড়ি ও গুইমারার সাম্প্রতিক ঘটনা তদন্তে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।
পাহাড়ি স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ডাকা অবরোধে শনিবার হতাহতের ঘটনায় ‘অনির্দিষ্টকালের’ সড়ক অবরোধ আহ্বান করে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতা’।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অবরোধের ভেতর রোববার পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির গুইমারা উপজেলায় নিরাপত্তা বাহিনী, বাঙালি বসতি স্থাপনকারী (সেটেলার) এবং ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ) এর মধ্যে ত্রিপক্ষীয় গুলিবিনিময়ে অন্তত তিনজন পাহাড়ি নিহত হয়েছেন এবং ১৩ সেনা সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ওইদিন ১৪৪ ধারা লঙ্ঘন করে গুইমারার রামসু বাজারে দুপুরে দিকে সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় দুর্বৃত্তরা কয়েকটি দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
টানা অবরোধ ও ১৪৪ ধারা প্রত্যাহর নিয়ে ‘জুম্ম ছাত্র-জনতার’ সঙ্গে সোমবার রাতে প্রশাসনের ইতিবাচক বৈঠক হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে সংগঠনের ফেসবুক পেজে জানানো হয়, শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রতি সম্মান জানিয়ে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেওয়া ৮ দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাসে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছে।

এদিকে, খাগড়াছড়িতে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠা ওই পাহাড়ি স্কুলছাত্রীর শারীরিক পরীক্ষার পর প্রতিবেদন জেলা সিভিল সার্জনের কাছে জমা দিয়েছে মেডিকেল বোর্ড। চিকিৎসকরা জানান, সেখানে ওই মেয়েটিকে ধর্ষণের আলামত মেলেনি বলে জানানো হয়েছে।
সবশেষ এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করায় চিরচেনা রূপে ফিরছে খাগড়াছড়ি। জেলা বিআরটিসি কাউন্টারের টিকেট বিক্রেতা বিদ্যুৎ চাকমা টাইমস অব বাংলাদেশকে জানান, সকাল থেকে কয়েকটি বাস খাগড়াছড়ি থেকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। আবার জেলার বাইরে থেকে কয়েকটি বাস জেলায় প্রবেশ করেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি আব্দুল বাতেন মৃধা বলেন, ‘জনজীবন স্বাভাবিক হচ্ছে। গাড়ি চলাচল শুরু হয়েছে। আশা করছি সবকিছু দ্রুত স্বাভাবিক হবে।’
খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক এবিএম ইফতেখারুল খন্দকার ইসলাম জানান, ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসছে। পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে সকলের সাথে পরামর্শ করে ১৪৪ তুলে নেওয়া হবে।


