বন্ড সুবিধায় ভারত থেকে আমদানি করা ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটের হদিস দিতে পারেনি সিম ফেব্রিক্স লিমিটেড। একই সময়ে নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে একটি নন-বন্ডেড গুদামে পাওয়া গেছে ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল, যার বৈধ ক্রয় বা আমদানির কাগজ দেখাতে পারেনি গুদাম কর্তৃপক্ষ।
দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না এবং শুল্কমুক্ত কাঁচামাল খোলাবাজারে সরিয়ে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অধীন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার নারায়ণগঞ্জের টানবাজারে মেসার্স এম আর ট্রেডার্সের গুদামে অভিযান চালায় সংস্থাটি। সেখানে সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইটসহ প্রায় ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যাল ও অন্যান্য কাঁচামাল পাওয়া যায়।
কাস্টমস গোয়েন্দার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযানকালে এম আর ট্রেডার্স এসব পণ্য কেনা, আমদানি বা বৈধভাবে মজুদের পক্ষে কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে পণ্যসহ গুদামটি সিলগালা করা হয়।
একই অভিযোগ যাচাই করতে সিম ফেব্রিক্স লিমিটেডেও অভিযান চালানো হয়।
প্রতিষ্ঠানটি ১৭ অক্টোবরের বিল অব এন্ট্রি নম্বর সি-১২৯৩৪৮২-এর মাধ্যমে ভারত থেকে ৪৫ টন সোডিয়াম হাইড্রোসালফাইট বন্ড সুবিধায় আমদানি করেছিল। তবে অভিযানের সময় সংশ্লিষ্ট আমদানি করা কেমিক্যাল কারখানায় দেখাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
বন্ড সুবিধায় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান নির্দিষ্ট কাঁচামাল শুল্কমুক্তভাবে আমদানি করতে পারে। সেই কাঁচামাল অনুমোদিত উৎপাদন কাজে ব্যবহারের পরিবর্তে খোলাবাজারে বিক্রি করা হলে সরকারের প্রাপ্য শুল্ক-কর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
এ কারণে সিম ফেব্রিক্সের আমদানি করা কেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহার না করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা।
তদন্তকারীদের সামনে মূল প্রশ্ন দুটি সিম ফেব্রিক্সের ৪৫ টন কেমিক্যাল কোথায় গেছে এবং এম আর ট্রেডার্সের গুদামে পাওয়া ৮১ দশমিক ৬ টন কেমিক্যাল কোথা থেকে এসেছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা জানিয়েছে, জব্দ করা কেমিক্যালের উৎস, আমদানি ও কেনাবেচার তথ্য, বন্ড সুবিধার সম্ভাব্য অপব্যবহার এবং কোনো রাজস্ব ফাঁকি হয়ে থাকলে তার পরিমাণ নির্ধারণে তদন্ত চলছে।
সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার, শুল্কমুক্ত কাঁচামালের অবৈধ বাজারজাতকরণ এবং রাজস্ব ফাঁকি ঠেকাতে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


