জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশ ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন হুমকিতে রয়েছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভাঙনে মহাসড়কের যোগাযোগব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, সমীক্ষা শেষে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
যুগ যুগ ধরে জামালপুর-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশ দিয়ে বয়ে যাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র নদ। নদটির ডান তীরের ভাঙন ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে পানি ক্রমেই মহাসড়কের কাছে চলে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে সদর উপজেলার হরিপুর, শরিফপুর ও নান্দিনা এলাকা।
প্রতি বছর নদে পানি বাড়া-কমার সঙ্গে এসব এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এভাবে ভাঙন অব্যাহত থাকলে মহাসড়কের কয়েকটি অংশ নদে বিলীন হতে পারে। এতে জামালপুর ও ময়মনসিংহের সড়ক যোগাযোগ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
হরিপুর এলাকার বাসিন্দা রুবেল মিয়া বলেন, ‘আমরা যখন একটু ছোট আছিলাম, তখন দেখছি ব্রহ্মপুত্র নদ কমপক্ষে এক কিলো এখান থেকে দূরে আছিল। আর এহন বর্তমানে এই যে মহাসড়কের কাছে আইসা পড়ছে নদী।’
একই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিবছর যেভাবে ভাঙতাছে, এইভাবে ভাঙলে আমাদের ময়মনসিংহ মহাসড়কের একেবারে কাছে আইসা পড়বে, মহাসড়ক ধরবে।’
নান্দিনা এলাকার বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘খালি শরিফপুর-নান্দিনা না, যে জায়গায় নদী চাইপা সড়কের সঙ্গে আসছে, সেই জায়গায় ক্ষতি হইবো, রোডটারে ক্ষতি করবো, রোডটা ভাইঙ্গা-চিইড়া যাবোগা। এইজন্যে আমরা আবেদন করি, আপনারা এইডা একটু লক্ষ্য করেন। কাজ করতে হবে।’
একই এলাকার বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘এটা জামালপুর হইতে ময়মনসিংহ, ময়মনসিংহ হইতে ভালুকা, ঢাকা পর্যন্ত মেইন রোড, হাইওয়ে রোড। ধ্বংস হইতে বেশি টাইম রাগবো না। ধ্বংস হবারই আছে, আর কিচ্ছু নাই। ভাঙতে ভাঙতে নদী চাপাইয়া দিছে, একদম ধ্বংস হয়া যাবো।’
জামালপুর থেকে সড়কপথে ময়মনসিংহের দূরত্ব ৫৪ কিলোমিটার। নদীপথে এই দূরত্ব ১০৮ কিলোমিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জামালপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান খান বলেন, ‘হরিপুর অংশে ১ হাজার ৩০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের জন্য ইতোমধ্যে একটি ফিজিবিলিটি সম্পন্ন হয়েছে। এটি প্রস্তাবনা মোতাবেক আমরা একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছি। এই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে ১ হাজার ৩০০ মিটার অংশে নদীতীর সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।’


