এইচএসসি ফলাফল/ চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হারের সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫

চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হারের সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন ২০২৬ সালের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে। কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫২ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এবার তা কমে হয়েছে ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ।

গত বছর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৬ হাজার ৯৭ জন। এবার পেয়েছে ২ হাজার ৯২৯ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকের বেশি কমেছে।

শনিবার চট্টগ্রাম মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড প্রকাশিত ফলাফলের পরিসংখ্যান থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবার এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৯৯ হাজার ৮৭৯ জন। পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৯৬ হাজার ৩৩৫ জন। অনুপস্থিত ছিল ৩ হাজার ৫৪৪ জন। গত বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৭৯০ জন। তাদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১ লাখ ১ হাজার ৮৮৮ জন।

এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি পাসের হারও কমেছে। তবে বহিষ্কৃত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে। ২০২৫ সালে ৩৮ জন বহিষ্কৃত হলেও এবার এ সংখ্যা ২৭। দুই বছরেই বোর্ড কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে একজন করে পরীক্ষার্থীর ফল স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞানের তুলনায় মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের পাসের হার কম। এবার বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৪ দশমিক ৪২ শতাংশ। মানবিক বিভাগে ৩৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৫৪ দশমিক ১৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন

জেলাভিত্তিক ফলাফলে চট্টগ্রাম মহানগরের শিক্ষার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন। তবে গত বছরের তুলনায় মহানগরেও পাসের হার কমেছে। এবার মহানগরে পাসের হার ৬৬ দশমিক ২০ শতাংশ। গত বছর ছিল ৭০ দশমিক ৯০ শতাংশ।

মহানগর বাদে চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৪৫ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত বছর ছিল ৪৩ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মহানগরসহ পুরো চট্টগ্রাম জেলায় এবার পাসের হার ৫৭ দশমিক ৪২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৭ দশমিক ৯৩ শতাংশ।

বোর্ডের আওতাধীন অন্য জেলাগুলোর মধ্যে কক্সবাজারে পাসের হার ৪৩ দশমিক ৩৪ শতাংশ, রাঙামাটিতে ৩৩ দশমিক ২৪ শতাংশ, খাগড়াছড়িতে ২৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ এবং বান্দরবানে ৪১ দশমিক ৪২ শতাংশ।

কলেজভিত্তিক ফলাফলেও পিছিয়ে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। এবার তিনটি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি। গত বছর এমন কলেজের সংখ্যা ছিল পাঁচটি। শতভাগ পাস করা কলেজের সংখ্যা এবার ছয়টি। গত বছর ছিল আটটি।

এবার ১০ জনের বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, এমন কলেজের মধ্যে ১০ শতাংশ বা তার কম শিক্ষার্থী পাস করেছে ১০টি কলেজে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ছয়টি। ১০ থেকে ২০ শতাংশ পাসের হার রয়েছে, এমন কলেজের সংখ্যা এবার ২৭টি। গত বছর ছিল ৪২টি।

সার্বিক ফলাফলে দেখা গেছে, পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমার পাশাপাশি পাসের হার ও জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। মহানগরসহ কয়েকটি জেলার পাসের হার কমেছে। বেড়েছে কম পাসের হারের কলেজের সংখ্যা। এতে কলেজভিত্তিক ফলাফলের বৈষম্য ও শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক পারভেজ সাজ্জাদ চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পাসের হার গতবারের কাছাকাছি। এবার অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হয়েছে এবং অভিন্ন পদ্ধতিতে মূল্যায়ন হয়েছে। তাই মূল্যায়ন যথাযথ হয়েছে। এ কারণে এ বছর জিপিএ-৫ অনেক কমেছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা ছিল। তাই শুরুর দুয়েকটি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ভীতি কাজ করতে পারে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা কিছুদিন বন্ধ ছিল। হয়তো পড়ার টেবিলে ফিরতে একটু সময় লেগেছে। এটাও একটি কারণ হতে পারে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad