নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মোসা. মরিয়ম (৩৫) নামে এক নারীকে মারধর, অস্ত্র দিয়ে আঘাত এবং বিষাক্ত ট্যাবলেট খাইয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীসহ নয়জনের বিরুদ্ধে। নিহতের ভাই মো. রাব্বি (২০) এ ঘটনায় থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
অভিযোগে বলা হয়, ইকবাল হোসেন ও তার সহযোগীরা মরিয়মের ঘরে মাদক সেবন করতেন। এতে বাধা দেওয়ায় মরিয়মকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
শনিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ইকবাল হোসেনসহ ইয়ামিন, আরমান, দিপু ও হিরন মরিয়মের ঘরে প্রবেশ করে মাদক সেবন শুরু করেন। মরিয়ম প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, তারা পিস্তল দিয়ে মরিয়মকে আঘাত করেন। হিরনও অপর একটি পিস্তল একপর্যায়ে মরিয়ম গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে আরমানের দেওয়া একটি ট্যাবলেট ইকবাল ‘ব্যথার ওষুধ’ বলে মরিয়মকে জোর করে খাওয়ান বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ট্যাবলেট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
এরপর ছালেহা বেগম, শিউলী বেগম, লাইলি বেগম ও আনারকলি অন্যদের সঙ্গে মরিয়মকে মৃত ভেবে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের করে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে মরিয়মকে প্রথমে মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাই রাব্বি এ ঘটনায় ইকবাল হোসেনসহ নয়জনের বিরুদ্ধে মারধর, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বিষ প্রয়োগে হত্যা ও মরদেহ গুমের চেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেন। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সোনারগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আ. বারিক জানান, এ ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চালানো হবে।


