কক্সবাজারের চকরিয়ায় ভাড়া বাসার বাথরুম থেকে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি, বিদেশ যাওয়ার জন্য টাকা এনে দেওয়ার চাপ এবং দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে ওই গৃহবধূকে হত্যা করে আত্মহত্যার ঘটনা হিসেবে প্রচার করছে।
মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে চকরিয়া পৌরসভার নিরিবিলি আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত সাদিয়া জান্নাত (২২) নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নের পুরুইত্যাখালী গ্রামের মোহাম্মদ সোহেলের স্ত্রী। সোহেল একই এলাকার মৃত নুরুল হোসেনের ছেলে। তাদের সংসারে একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
নিহতের চাচা নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার ভাতিজি সাদিয়া জান্নাত স্বামীসহ চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে নিরিবিলি আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসায় থাকত। ওই বাসার প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুট উচ্চতার একটি বাথরুম থেকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।’
ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে বিশ্বাসযোগ্য নয় দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমার ভাতিজির উচ্চতাও প্রায় সাড়ে পাঁচ ফুটের কাছাকাছি। আর তাকে যেভাবে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে, সেটি আত্মহত্যার ঘটনার দৃশ্যের মতো মনে হয়নি। বিষয়টি কোনোভাবেই আত্মহত্যা বলে আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য নয়।’
নিহতের মা জান্নাত আরা অভিযোগ করে বলেন, ‘মেয়ের জামায় দীর্ঘদিন ধরে বেকার। সম্প্রতি বিদেশ যাওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা এনে দিতে মেয়েকে চাপ দিচ্ছিল। আমার মেয়ে তাকে বলেছিল, প্রয়োজন হলে সে নিজেই তার শ্বশুরের কাছে টাকা চাইতে পারে। কিন্তু স্বামীর কথামতো বাবার বাড়ি থেকে টাকা চাইতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ‘টাকার জন্য চাপ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। এখন ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করার চেষ্টা করা হচ্ছে।’
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিবারের লোকজন আগেই ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী পলাতক রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘এটি নিছক আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।’


