গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা এখন অনেকটা ভালো। আগামী সাতদিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া সম্ভব। ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান রোববার সকালে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থা ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে। তার সিটিস্ক্যান রিপোর্ট ভালো এসেছে।’
‘তবে গণ অধিকার পরিষদ নেতা কিছুটা ট্রমায় আছেন’ জানিয়ে ঢামেক পরিচালক বলেন, ‘নুরের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিতে ৬ সদস্যের বোর্ড গঠন করে সব ধরনের চিকিৎসা চলছে।’
তাকে আরও কিছুদিন আইসিইউ’তে রাখা হবে নাকি কেবিনে স্থানান্তর করা হবে, রোববার বোর্ডের সভায় ওই সিদ্ধান্ত হবে বলেও জানান মো. আসাদুজ্জামান।
এর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘নুরুল হক নুরের নাকের হাড়, চোয়ালের হাড় ভেঙে গেছে। চোখে আঘাত আছে। এ ছাড়া মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছিল। তবে তা ধীরে ধীরে কমে আসছে।’
তিনি আরও জানান, নুরের শরীরে লবনের পরিমান কম ছিল, সেটি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তিনি মুখে খেতে পারছেন এবং এখন সবকিছুই স্বাভাবিক আছে।’
নুরের খোঁজ নিলেন রাষ্ট্রপতি
এদিকে ফোন করে নুরুল হক নুরের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রোববার সকালে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদ সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘নুরের ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও গভীরভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি। সেইসঙ্গে তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে প্রয়োজনে উন্নত চিকিৎসার জন্য নুরকে বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মো. সাহাবুদ্দিন।’
এ ছাড়া, নুরের ওপর হামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
শুক্রবার রাতে রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় জাতীয় পার্টির সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান গণ অধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। পরে আল রাজী টাওয়ারের সামনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিপেটায় গুরুতর আহত হন নুরুল হক নুর, সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদসসহ গণঅধিকার পরিষদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। পড়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থল থেকে নুরকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে নিয়ে যান সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।