পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের উদ্যোগ আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীতে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা-২০২৬ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এর উদ্বোধন করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
সরকার জানিয়েছে, ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে। জিআইএস, রিমোট সেন্সিং, ন্যাশনাল ট্রি ডাটাবেজ ও ড্রোন প্রযুক্তির মাধ্যমে ডিজিটাল পদ্ধতিতে বনায়ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ উদ্যোগের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে তিন লাখ নতুন সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় পরিবেশ পদক-২০২৫, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৬ এবং বৃক্ষরোপণে জাতীয় পুরস্কার-২০২৫ দেন। পাশাপাশি সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে জলপাই, জারুল ও নিম গাছের চারা রোপণ করেন। পরে পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে আয়োজিত জাতীয় বৃক্ষমেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাজধানীতে মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার পাশাপাশি সাতটি বিভাগীয় শহরে ১৫ দিন, ৫৬টি জেলা সদরে সাত দিন এবং ২৯টি উপজেলায় তিন দিনব্যাপী বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হচ্ছে। ঢাকার মেলায় অংশ নিয়েছে ১২০টি স্টল।
এর আগে গত ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে একটি গর্জন গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


