রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেপ্তার নীলফামারী-৩ আসনের (সংরক্ষিত) সাবেক সংসদ সদস্য মোছা. আশিকা সুলতানাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক এ আদেশ দেন। এর আগে একই মামলায় গত শুক্রবার থেকে তিনি তিন দিনের রিমান্ডে ছিলেন।
এদিকে রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান’ দেন আশিকা। তিনি বলেন, ‘আমি কি করেছি, কি অপরাধ আমার?যে বারবার রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে?’
সোমবার আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আল মামুন হোসাইন পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
আশিকা সুলতানার আইনজীবী শাহাব উদ্দিন রাজু বলেন, ‘সাবেক এ এমপি গত শুক্রবার থেকে এই মামলায় রিমান্ডে ছিলেন। একজন নারীকে বারবার একই মামলায় রিমান্ডে নেওয়া মানবাধিকার লঙ্ঘন। যা আমরা আদালতে রিমান্ড শুনানিতে বলেছি। কিন্তু আদালত রিমান্ড শুনানি শেষে তাকে ফের তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয়।’
গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর মিরপুর ১১ থেকে আশিকা সুলতানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৯ জুন মিরপুর ১ এর এপেক্স শোরুম সংলগ্ন বাটা শোরুমের সামনের রাস্তায় আওয়ামী লীগ- ছাত্রলীগের ৪০/৫০ জন সরকারবিরোধী মিছিল করে। এ সময় পুলিশের টের পেয়ে উপস্থিত আসামিরা তাদের কাছে থাকা বিভিন্ন ব্যানার ফেস্টুন রেখে পালিয়ে যায়। পরে ভিডিও ফুটেজে দেখা যায় আওয়ামী লীগের ৭৭ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে তারা মিছিল করেছেন। ওই ঘটনায় পুলিশ সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে সাবেক এমপি আশিকাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিমান্ড আবেদনে পুলিশ জানায়, বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে- ওই ঘটনার সঙ্গে আসামি আশিকা সুলতানা জড়িত আছেন। তিনি আওয়ামী লীগের একজন অর্থদাতা বলেও দাবি করে পুলিশ।
মিছিলের মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতকদের গ্রেপ্তার ও আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের মিছিলের নেতৃত্বদানকারীদের রহস্য উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তদন্ত কর্মকর্তা।


