লালমনিরহাটের আদিতমারী ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে চার দিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এতে দুই উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক অন্ধকারে দিন কাটাচ্ছেন, যার ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ।
ঝড়ের সময় বজ্রপাতে পল্লী বিদ্যুতের ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত চার দিন আগে বয়ে যাওয়া তীব্র ঝড় ও বজ্রপাতে আদিতমারী-২ সাব-স্টেশন (হাজীগঞ্জ) এর মূল পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে যায়। এরপর প্রায় ৯২ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় এলাকাগুলোতে তীব্র পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এছাড়া মোবাইল ফোন চার্জ দিতে না পারা, ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়া এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও হাসপাতালে থাকা অসুস্থ ব্যক্তিরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী ও পচনশীল পণ্য নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাদের বড় ধরনের আর্থিক লোকসান গুনতে হচ্ছে। দ্রুত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
আদিতমারী উপজেলার হাজীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান বলেন, ‘বিদুৎ না থাকার যে যন্ত্রণা তা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছি। স্বাভাবিক জীবন বলে কিছু নেই।’
একই উপজেলার আমেনা এলাকার এইচএসসি পরীক্ষার্থী আজিজুল ইসলাম জানান বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে আদিতমারী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মুহাম্মদ আব্দুল ফাত্তাহ বলেন, ‘বজ্রপাতের কারণে ১০ এমবিএ ক্ষমতাসম্পন্ন ট্রান্সফরমারটি পুড়ে বিকল হয়ে গেছে। ফলে প্রায় ২২ হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছেন। তবে আমরা বসে নেই, ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে একটি নতুন ট্রান্সফরমার নিয়ে আসা হয়েছে এবং সেটি প্রতিস্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করছি খুব দ্রুতই বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে।’
আদিতমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গুঞ্জন বিশ্বাস জানান, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। গ্রাহকদের দুর্ভোগ কমাতে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’


