ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলী লারিজানির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশটির নতুন সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে।
বুধবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে মোজতবা খামেনি লারিজানিকে ‘বুদ্ধিমান, অঙ্গীকারবদ্ধ এবং ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব’ হিসেবে অভিহিত করেন।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত ওই বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের একজন ব্যক্তিত্বকে হত্যা করা হয়েছে-এ থেকেই বোঝা যায় তিনি কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলেন এবং শত্রুদের কাছে কতটা ভয়ংকর ছিলেন। শহীদদের প্রতিটি রক্তের মূল্য আছে, যা হত্যাকারীদের শিগগিরই পরিশোধ করতে হবে।’
সোমবার রাতে তেহরানে ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কাউন্সিলের প্রধান আলী লারিজানি তার পুত্রসহ নিহত হন। একই দিনে পৃথক আরেকটি হামলায় আধা-সামরিক বাহিনী বাসিজের প্রধান গোলামরেজা সোলেইমানিও প্রাণ হারান।
পরদিন মঙ্গলবার দিবাগত রাতে আরেক দফা হামলায় নিহত হন ইরানের গোয়েন্দা বিষয়ক মন্ত্রী ইসমাইল খতিব। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে এক্সে দেওয়া বার্তায় একে ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে আখ্যা দেন।
এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিসহ একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতা নিহত হন। ওই হামলায় আহত হয়েছিলেন মোজতবা খামেনি, যিনি পরবর্তীতে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এদিকে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে ইরানের যেকোনো জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে লক্ষ্যবস্তু করার অনুমতি তাদের সামরিক বাহিনীকে দেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য আলাদা কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন হবে না।
বর্তমান পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: আল-জাজিরা


