শিশু সাহিত্যিক ও ছড়াকার আমীরুল ইসলাম (৬২) মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার রাত ১টা ৭ মিনিটে রাজধানী ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম আমীরুল ইসলামের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
সাহিত্যিকের পরিবারের পক্ষ থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে কিডনি সংক্রান্ত জটিলতায় ভুগছিলেন। বেশ কিছুদিন যাবত তিনি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে গত রোববার রাত ৩টার দিকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়।
আমীরুল ইসলাম বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। টেলিভিশনটির পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শুক্রবার বাদ জুমা শিশু সাহিত্যিকের মরদেহ চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে নেওয়া হবে। সহকর্মীদের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানেই তার প্রথম জানাজা হবে।
এরপর বিকাল ৩টায় আমীরুল ইসলামের মরদেহ বাংলা একাডেমির বর্ধমান হাউস প্রাঙ্গণে রাখা হবে। সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানো শেষে বিকাল সাড়ে ৩টায় সেখানে দ্বিতীয় জানাজা হবে।
মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরে সমাহিত করার আগে বাংলামোটরের বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে ১৫ মিনিটের জন্য সহকর্মী, অনুসারী ও ভক্তদের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য তার মরদেহ রাখা হবে।
সেখান থেকে মিরপুরের গোলারটেক ঈদগাহ জামে মসজিদে তৃতীয় জানাজা শেষে তাকে কবরস্থ করা হবে।
আমীরুল ইসলাম ১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সাইফুর রহমান এবং মা আনজিরা খাতুন। ছোটবেলায় পরিবারের সদস্যরা তাকে আদর করে ডাকতেন ‘টুলু’।
আমীরুল ইসলাম খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক হাবীবুর রহমানের ভাতিজা।
দুই শতাধিক গ্রন্থের রচয়িতা আমীরুল ইসলাম শিশুসাহিত্যে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। এ ছাড়া অনবদ্য লেখনি দিয়ে পাঠকদের মন জয় করে তিনি দেশে-বিদেশে নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।


