ময়মনসিংহ মেডিকেলে হা‌ম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত‌্যু

ময়মনসিংহ মেডিকেলে হা‌ম উপসর্গে আরও ৪ শিশুর মৃত‌্যু
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ছবি: ফেসবুক
Advertisement
Advertisement

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হামের উপসর্গে শিশু মৃত্যুর মিছিল থামছে না। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও চার শিশুর মৃত্যু হয়েছে এখানে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৭ মার্চ থেকে এ হাসপাতালে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৮ জনে। একই সময়ে নতুন করে আরও ১৬ শিশু ভর্তি হওয়ায় হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চাপ আরও বেড়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৬ শিশু।

শনিবার সকালে হাসপাতালের সিনিয়র স্টোর অফিসার ঝন্টু সরকার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত চার শিশুর মধ্যে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের চার মাস বয়সী এক কন্যাশিশু গত ১৮ জুন ভর্তি হওয়ার পর শুক্রবার দুপুরে মারা যায়। মৃত্যু সনদে হামের লক্ষণের পাশাপাশি নিউমোনিয়া ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ফুলপুর, নেত্রকোনার কমলাকান্দা ও সুনামগঞ্জের মদনপুর এলাকার আরও তিন শিশু শুক্রবার বিকাল থেকে রাতের মধ্যে মারা যায়। তাদের বয়স চার থেকে আট মাসের মধ্যে।

আরও পড়ুন

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৬ শিশু ভর্তি হলেও কাউকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়নি। একই সময়ে কোনো রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায়ও পাঠানো হয়নি। গত ১৭ মার্চ থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট দুই হাজার ৩৭৮ শিশু ভর্তি হয়েছে এ হাসপাতালে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে দুই হাজার ২২৬ জন। আর ৫৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

এ বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে রোগী ভর্তি শুরু হলেও মার্চের মাঝামাঝি থেকে পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটে। রোগীর চাপ সামাল দিতে ৬৪ শয্যার পৃথক আইসোলেশন ওয়ার্ডে তিনটি মেডিকেল দল কাজ করছে। তবুও শিশু মৃত্যুর ধারাবাহিকতা থামছে না।

আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি এক শিশুর মা মনোয়ার খাতুন বলেন, ‘গত সাত দিনে আমার চোখের সামনেই নয়টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। প্রতিদিনই এক-দুজন করে শিশু মারা যাচ্ছে। আমার সন্তানকে নিয়েও চরম আতঙ্কে আছি।’

শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) সুবিধা না থাকায় সংকট আরও প্রকট হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। জরুরি ভিত্তিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রসহ (আইসিইউ) প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানো না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলেও তিনি মনে করেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad