মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য যোগদানের বিষয়ে ঢাকার সিদ্ধান্ত নিয়ে তেহরান উদ্বিগ্ন নয় বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদি। এই চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ হিসেবেও দেখছে না দেশটি।
বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা মক্কা শান্তি চুক্তিকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো উদ্যোগ মনে করি না। বাংলাদেশের সিদ্ধান্তও নিয়েও আমাদের উদ্বেগ নেই।’
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে ঢাকার ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা তেহরান জানে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ফলে আন্তর্জাতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্কের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের যেকোনো সিদ্ধান্ত ইরানের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে না।
তেহরান বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ককে গুরুত্ব দেয়। পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক, বাণিজ্যিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে তেহরান আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির মধ্যপ্রাচ্যের মানুষের পাশাপাশি ওই অঞ্চলের বাইরের মানুষের স্বার্থেও আঞ্চলিক উত্তেজনার দ্রুত অবসান এবং স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
ইরানের রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি দেখিয়ে দিয়েছে যে, দেশগুলো তাদের নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে একে অপরের ওপর নির্ভরতাকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
তার কথায়, ‘আঞ্চলিক দেশগুলো যে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, শান্তি চুক্তি এর ভালো প্রমাণ। এটি প্রমাণ করে যে তারা আর নিজেদের নিরাপত্তার জন্য আমেরিকার ওপর নির্ভর করতে চায় না।’
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত বলেন, সাম্প্রতিক যুদ্ধের অভিজ্ঞতা থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটির উপস্থিতি তাদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে পারে না।
তিনি বলেন, তাই দেশগুলোর উচিত বাইরের শক্তির ওপর নির্ভর না করে নিজেদের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেদেরই নেওয়া। আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগগুলো বৃহত্তর কৌশলগত স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
পাকিস্তান ও সৌদি আরবসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন দেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত বলেন, এ ধরনের উদ্যোগকে ইরান প্রতিবেশী ও আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের জন্য হুমকি হিসেবে দেখে না।
গত ৭ আগস্ট ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’তে স্বাক্ষর করে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক। চুক্তিতে তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে আমন্ত্রণ পেলে বাংলাদেশ তা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করবে।


