বিচারকের ছেলে ‘হত্যাকারী লিমন’ সম্পর্কে যা জানা গেল

বিচারকের ছেলে ‘হত্যাকারী লিমন’ সম্পর্কে যা জানা গেল
লিমন মিয়া। ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

রাজশাহীতে বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকে তার ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে ছুরিকাঘাতে হত্যার ঘটনায় আসামি যুবক লিমন মিয়া (৩৫) গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার বাসিন্দা। লিমন ‘জিয়া সাইবার সোর্স’ এর জেলা কমিটির সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন।

অভিযুক্তের পরিবার জানায়, দুই ভাই ও দুই বোনের মধ্যে লিমন মেজ। গাইবান্ধা সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। প্রায় ১০ বছর চাকরি করার পর ২০১৮ সালে সেনাবাহিনী ছেড়ে বাড়ি ফিরে আসেন তিনি। এরপর থেকে ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া হাট ও বালাসী ঘাট এলাকায় শেয়ার এবং বালু ব্যবসাসহ বিভিন্ন বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি।

পরিবারের দাবি, লিমন দীর্ঘদিন ধরে চোখের সমস্যায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার জন্য এক মাস আগে তিনি বাড়ি থেকে ঢাকায় যান। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার পর থেকেই পরিবারের সঙ্গে তার আর কোনো যোগাযোগ ছিল না। রাজশাহীতে যাওয়ার কারণ বা বিচারকের পরিবারের সঙ্গে লিমনের সম্পর্কের বিষয়ে পরিবারের কেউ কিছু জানে না।

লিমনের বাবা বলেন, ‘কলেজে পড়ার সময় লিমনের সেনাবাহিনীতে চাকরি হয়। তবে, চাকরি ছেড়ে আসার পর থেকেই তার সঙ্গে আমার সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়। পরে সে এলাকায় ব্যবসা করত। গত এক মাস আগে চোখের চিকিৎসার কথা বলে ঢাকায় যায়। এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ পাইনি।’

‘বিচারকের ছেলে হত্যার ঘটনায় পুলিশ আমার ছেলেকে আটক করেছে বলে শুনেছি। যদি সে জড়িত থাকে, আইন অনুযায়ী তার বিচার হোক। এ নিয়ে আমার কিছু বলার নেই’ বলেও মন্তব্য করেনে তিনি।

আরও পড়ুন

এদিকে, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার গাইবান্ধা শহরের এটেস্ট্রেটপাড়ায় লতিফ হক্কানীর মেয়ে। একই জেলার সন্তান হওয়ায় তাসমিন নাহার ও লিমনের মধ্যে পরিচয় ও যোগাযোগ গড়ে ওঠে। লিমন প্রায়ই আর্থিক সাহায্য চাইতেন। কিন্তু তাসমিন সহযোগিতা না করায় ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি একাধিকবার হুমকি দেন। সর্বশেষ ৩ নভেম্বর সকালে লিমন তাসমিনের মেয়ের ফেসবুক মেসেঞ্জারে কল করে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেন।

তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লিমনের ভাইরাল হওয়া ভিডিও থেকে জানা যায়, বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পাঁচ বছরের সম্পর্ক ছিল। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়।

এর আগে, বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজশাহীর ডাবতলা এলাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুর রহমানের ভাড়া বাসায় ঢুকেন লিমন মিয়া। এ সময় সুমন ও তাসমিন নাহারকে ছুরিকাঘাত করেন তিনি। পুলিশ তাদের দুইজনকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে চিকিৎসক সুমনকে মৃত ঘোষণা করেন।

গত ৬ নভেম্বর সিলেটের জালালাবাদ থানায় তাসমিন নাহার একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের সদস্য লিমন মিয়া বারবার আর্থিক সাহায্য না পেয়ে তাকে ও তার পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। পুলিশ তখন তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad