প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের স্টাফ পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা ও অর্থ আদায় চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নাটোর জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি দল গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে অভিযান চালায় এবং সিংড়া উপজেলার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম আবু হুরায়রা খালেদ রাশেদ (৩০)। তিনি নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলামের ছেলে।
শনিবার দুপুরে নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহা. শরীফুল হক।
পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘদিন যাবৎ দেশের বিভিন্ন জেলায় আবু হুরায়রা তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ, রকেট এবং মোবাইল ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি, সরকারি চাকরিজীবি ও অন্য গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আসছিলেন।
ওই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি ও তার সহযোগী প্রতারকচক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং বিএনপির রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়নের ব্যবস্থা করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে অর্থ দাবি করতেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ অক্টোবর বিকাল সোয়া ৩টার দিকে আবু হুরায়রা খালেদ রাশেদ (৩০) তার নিজ বাড়ি থেকে মো. কাদের গনি চৌধুরী মামে এক ব্যক্তির মোবাইল নম্বরে হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ফোন করেন এবং নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দেন। কথার এক পর্যায়ে তিনি বিএনপির মনোনীত রাজনৈতিক পদে পদায়নের জন্য একটি ফরম পূরণের কথা বলে কাদেরের কাছ থেকে টাকা আদায় করেন।
একইভাবে নাসিরউদ্দিন নামের এক আইনজীবীর কাছে ফোন করে তাকেও রাজনৈতিক পদে পদায়নের জন্য অনলাইনে একটি ফরম পূরণ করার কথা বলে টাকা দাবি করেন।
বিষয়টি একপর্যায়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব জনাব আতিকুর রহমান রুমনের কাছে জানানো হলে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিতে আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর দ্বারস্থ হন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে দায়িত্বরত ছিলেন। পরে ২০২২সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ বেতার রংপুরের রেডিও টেকনেশিয়ান পদে সরকারি চাকরিতে কর্মরত ছিলেন। রংপুরে অবস্থানকালে একই রকম প্রতারণা মামলায় তাকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হয়।
তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই সাইবার সুরক্ষা আইন ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন ও প্রতারণা মামলা হয়েছে। প্রতারক চক্রের অন্য পলাতক সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।


