প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ছিল দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করার গভীর ষড়যন্ত্র। জাতীয় শহীদ সেনা দিবস উপলক্ষ্যে বুধবার বিকালে ঢাকা সেনানিবাসের আর্মি মাল্টিপারপাস কমপ্লেক্সে শহীদ পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। পিলখানায় শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন মেধাবী সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি বলেন, পিলখানার এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। এই শোকের বেদনা আজও প্রতিটি দেশপ্রেমিক মানুষের হৃদয়ে বহমান।
নিজেকে একটি সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বনানী সামরিক কবরস্থানে শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি স্বজনহারা পরিবারগুলোর দীর্ঘ ১৭ বছরের বিচার না পাওয়ার যন্ত্রণা উপলব্ধি করেছেন।
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, পিলখানার এই ট্র্যাজেডিকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া বর্তমান সরকারের জাতীয় দায়িত্ব। পিলখানার স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে সেনাবাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার সময় তৎকালীন ইপিআরের সদস্যরা অসামান্য অবদান রেখেছিলেন। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই এই বাহিনীকে সুসংহত ও পুনর্গঠিত করার কাজ শুরু করেন। বর্তমান সরকার জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়ে এই সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে জাতীয় নিরাপত্তাকে সময়োপযোগী করা হবে। একই সাথে শহীদ পরিবারের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এবং সামরিক-বেসামরিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে তারা সেখানে ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


