নোয়াখালী জেলাজুড়ে সরকারিভাবে জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণে তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলা থেকে শুরু করে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে জন্ম নিয়ন্ত্রণ পিল, ইনজেকশন এবং কনডম পাওয়া এখন দুষ্কর হয়ে পড়েছে। এর ফলে গ্রামীণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দম্পতিদের মধ্যে চরম দুশ্চিন্তা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যা সরকারের পরিবার পরিকল্পনা কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায় জেলার নয়টি উপজেলার বেশিরভাগ স্বাস্থ্য কেন্দ্রেই জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে গ্রামাঞ্চলের মানুষ জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রী না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছ থেকে কোনো উপকরণ পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়েও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
এক স্থানীয় নারী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ওনারা (স্বাস্থ্যকর্মীরা) তো আসেই না, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গেলেও আমরা সেগুলো ঠিকমতো পাই না।’
অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, নিয়মিত সরবরাহ না থাকায় অনেক নতুন বিবাহিত নারী সরকারের দেওয়া পরিবার পরিকল্পনার বড়ি বা সেবার বিষয়ে ঠিকমতো জানতেও পারছেন না।
মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী রহিমা বেগম সংকটের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘পিল, কনডম, ইনজেকশন কিংবা দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি আমাদের কাছে এখন কিছুই নেই। আমরা রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী সামগ্রী দিতে পারছি না। এর ফলে মাঠপর্যায়ে অনাকাঙ্ক্ষিত গর্ভধারণের ঘটনা বাড়ছে।’
খাওয়ার বড়ি, ইনজেক্টেবল, কনডম, আইইউডি (IUD) এবং ইমপ্ল্যান্টসহ সরকারিভাবে মূলত পাঁচ ধরনের জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। যার বড় অংশই পেয়ে থাকেন সমাজের অসচ্ছল ও প্রান্তিক মানুষ।
জেলা পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই মাস থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে এসব সামগ্রী কেনাকাটা বন্ধ থাকায় এই সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক এবং দ্রুতই সংকট কেটে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছে পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়।
এ বিষয়ে নোয়াখালী জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আবুল মাল কাশেম মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম জানান, ‘লজিস্টিকসের যে স্বল্পতা বা ক্রাইসিস রয়েছে, আশা করি আমরা তা কাটিয়ে উঠতে পারব। কেনাকাটার প্রক্রিয়াটি ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে। আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই পিল, ইনজেক্টেবলস এবং কনডমের এই ঘাটতি আমরা পূরণ করতে পারব বলে আশা করছি।’
নাগরিক সমাজের এস এম সাহাব উদ্দিন জানান, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর একটি বিশাল অংশ পুরোপুরি সরকারি সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল। তাই অতি দ্রুত এই জন্ম নিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহ স্বাভাবিক করা না গেলে গ্রামীণ জনস্বাস্থ্যে এবং জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণে এর বড় ধরনের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।


