মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন সংক্রান্ত অগ্রাধিকারভুক্ত মামলাগুলোতে দেশে ও বিদেশে মোট ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
এর মধ্যে দেশে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা মূল্যের সম্পদ রয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে বুধবার অনুষ্ঠিত জাতীয় সমন্বয় কমিটির ৩০তম সভাতে এসব তথ্য ওঠে আসে।
সভায় জানানো হয়, বিদেশে পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারে অগ্রাধিকার হিসেবে চিহ্নিত ১১টি কেইসের আওতায় ইতোমধ্যে ১০৪টি মামলা দায়ের, ১৪টি মামলায় চার্জশিট দাখিল এবং চারটি মামলায় আদালতের রায় প্রদান করা হয়েছে।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের কার্যক্রম আরও দক্ষ ও কার্যকর করতে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর কয়েকটি ধারা যুগোপযোগী করে সংশোধনের সিদ্ধান্তও সভায় গৃহীত হয়।
সভায় যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের মাধ্যমে পরিচালিত অগ্রাধিকার কেসগুলোর অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হয়।
একই সঙ্গে এসব মামলায় যত দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দাখিল, সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট প্রেরণ এবং মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অগ্রাধিকারভুক্ত ১১টি কেইসের জন্য ইতোমধ্যে ২১টি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে পাঠানো হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, মানিলন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের লক্ষ্যে এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানিলন্ডারিং কর্তৃক ২০২৭–২০২৮ মেয়াদে চতুর্থ পর্বের মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন করা হবে।
এই মিউচুয়াল ইভ্যালুয়েশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হয় সভা থেকে।
সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপাক্ষিক সচিব, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ এবং বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


