দেশ সংস্কারে তারেক রহমানের পরিকল্পনার রূপরেখা

দেশ সংস্কারে তারেক রহমানের পরিকল্পনার রূপরেখা
Advertisement
Advertisement

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকদের কাছে দেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো পরিবর্তনে তার পরিকল্পনার রূপরেখা তুলে ধরেছেন। শনিবার ঢাকার শেরাটন হোটেলে আয়োজিত মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি জানান, ৫ আগস্ট-পরবর্তী বাংলাদেশের জন্য তার এই পরিকল্পনা কেবল রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের একটি লক্ষ্য।

‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও নারীর ক্ষমতায়ন

তারেক রহমানের অন্যতম প্রধান উদ্যোগ হলো প্রায় ৪ কোটি পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা। এই কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণী বা পরিবারের নারী প্রধানরা ৫ থেকে ৭ বছর পর্যন্ত সরাসরি আর্থিক সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা পাবেন।

তিনি জানান, এই পরিকল্পনায় নারীদের প্রাধান্য দেওয়ার কারণ হলো নারীরা টাকা খরচ করার ক্ষেত্রে পরিবারের স্বাস্থ্য, সন্তানদের শিক্ষা এবং ছোট ব্যবসায় বিনিয়োগে বেশি আগ্রহী হন। দুর্নীতি রোধে এই কার্ড সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে, তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সচ্ছল পরিবারগুলো স্বেচ্ছায় এই সুবিধা গ্রহণ থেকে বিরত থাকবে।

স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন

তারেক রহমান চিকিৎসার চেয়ে ‘রোগ প্রতিরোধ’-এর ওপর বেশি জোর দেওয়ার প্রস্তাব করেন। যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার আদলে তিনি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা করেছেন, যার ৮০-৮৫ শতাংশই হবেন নারী। এই কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিচ্ছন্নতা, পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করবেন।

দক্ষতার আধুনিকায়ন ও বিদেশে কর্মসংস্থান

আরও পড়ুন

যুবসমাজের উন্নয়নে তিনি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। বর্তমানে দক্ষ শ্রমিকের অভাবে প্রবাসী বাংলাদেশিরা কম আয় করেন। তারেক রহমানের লক্ষ্য হলো জাপানি, ইউরোপীয় বা চীনা ভাষা এবং বাজার-উপযোগী প্রশিক্ষণ দিয়ে একজন প্রবাসী শ্রমিকের গড় মাসিক আয় ১০০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০০ ডলারে উন্নীত করা। এছাড়া রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তুলতে উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কথাও তিনি জানান।

ডিজিটাল অবকাঠামো ও আইটি সংস্কার

দেশের আইটি পার্কগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য এসব পার্কে বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই এবং অফিসের জায়গা দেওয়া হবে। পাশাপাশি অনলাইন কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে পেপালসহ আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়েগুলো চালু করার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সুশাসন ও পরিবেশ সংকট

তারেক রহমান ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সংসদ পর্যন্ত সব স্তরে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তার সংস্কার পরিকল্পনাকে তিন ভাগে ভাগ করেছেন: সাংবিধানিক, আইনি এবং জনগণের জীবনযাত্রার প্রয়োজন।

তিনি পরিবেশগত সংকট নিয়ে সতর্ক করে বলেন, বুড়িগঙ্গা ও শীতলক্ষ্যা নদী মারাত্মকভাবে দূষিত। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে ঢাকা শহর তীব্র পানি সংকটে পড়তে পারে।

গণমাধ্যমের ভূমিকা ও আগামী পরিকল্পনা

তারেক রহমান জানান, আগামী ২২ তারিখ থেকে জনগণের কাছে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা তুলে ধরা হবে। তিনি বলেন, জনগণের রায়ে বিএনপি সরকার গঠন করলে তিনি গণমাধ্যমের ‘গঠনমূলক সমালোচনা’ স্বাগত জানাবেন। তিনি মনে করেন, কেবল সমালোচনার খাতিরে নয়- সমালোচনা হতে হবে জনস্বার্থে সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে।

এই মতবিনিময় সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় সম্পাদক, সিনিয়র সাংবাদিক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্যসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা অংশ নেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad