ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা ১০ দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই। কন্ট্রোলারের ব্রেকার পুড়ে যাওয়ার পর থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রয়েছে। এতে তীব্র গরমে মুসল্লিদের দুর্ভোগের পাশাপাশি মসজিদের অযুর পানির ব্যবস্থাও বন্ধ হয়ে গেছে।
মসজিদ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে মসজিদের জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হয়। বিষয়টি টের পেয়ে মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন নিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেন। পরে কক্ষে গিয়ে ব্রেকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা যায়। এরপর থেকে মসজিদের অভ্যন্তরের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় মসজিদের বৈদ্যুতিক পাখা, আলো, মাইক ও এসি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। পানির পাম্পও বন্ধ থাকায় অযুর পানির সংকট তৈরি হয়েছে। মসজিদের স্টাফদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে বালতিতে করে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
প্রতিদিন মসজিদটিতে আড়াই থেকে তিন শতাধিক মুসল্লি জামাতে নামাজ আদায় করেন। শুক্রবার জুমার নামাজে ছয় থেকে সাত শতাধিক মুসল্লির সমাগম হয়। নারী মুসল্লিরাও নিয়মিত এখানে নামাজ পড়তে আসেন।
মসজিদের খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় মুসল্লিদের অযুর ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। স্টাফদের প্রয়োজনীয় কাজের জন্য বাইরে থেকে পুকুরের পানি এনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।
মুসল্লি মো. সরোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, অনেক সময় মসজিদে অযুর ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি মনে থাকে না। নামাজের সময় মসজিদে এসে পানি না পেয়ে বাইরে গিয়ে অযু করতে হয়। এতে অনেক সময় জামাত মিস হয়ে যায়।
রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান বলেন, খুঁটি থেকে মিটার হয়ে মেইন সুইচ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রয়েছে। মেইন সুইচের পর মসজিদের ভেতরের সমস্যার দায়িত্ব তাদের নয়।
রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা মৌরি বলেন, ‘গণপূর্ত বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার এসে বিষয়টি দেখে গেছেন। ভেতরের কিছু যন্ত্রাংশ পুড়ে গেছে বলে তারা জানিয়েছেন। এটি মেরামত করতে কিছুটা সময় লাগবে বলেও জানিয়েছেন তারা।’


