চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ দুটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও ভোটের মাঠে এখনো নিষ্ক্রিয় সাবেক মন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির নেতা আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং এলডিপি চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের ছেলে ওমর ফারুক। নির্বাচনী এলাকায় তাঁদের কোনো প্রচার চোখে না পড়ায় স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী): আনিসুল ইসলাম মাহমুদ
হাটহাজারী উপজেলা ও চট্টগ্রাম মহানগরের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-৫ আসন। এখানে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। ১৯৯০-এর দশক থেকে আসনটি বিএনপি ও জাতীয় পার্টির মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ২০০৮ সাল থেকে এখানে জাতীয় পার্টির অবস্থান বেশ মজবুত এবং আনিসুল ইসলাম মাহমুদ একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করলেও মাঠে তার কোনো তৎপরতা নেই। বড় কোনো জনসভা বা গণসংযোগ না থাকায় ভোটারদের মধ্যে আনিসুল ইসলাম মাহমুদকে নিয়ে দ্বিধা তৈরি হয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পরিচিত মুখ হওয়ায় শেষ মুহূর্তে তিনি মাঠে নামবেন।
চট্টগ্রাম-৫ আসনে বিএনপির পক্ষ থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন দলটির বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। দলের মনোনয়ন না পেলেও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস এম ফজলুল হক ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শাকিলা ফারজানা। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন অধ্যাপক আবদুল মালেক চৌধুরী। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৭২ হাজার ১০৮ জন।
চট্টগ্রাম-১৪: দৃশ্যপটে নেই এলডিপির ওমর ফারুক
চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ার আংশিক এলাকা নিয়ে গঠিত চট্টগ্রাম-১৪ আসনটি দীর্ঘকাল ধরে এলডিপি সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের দুর্গ হিসেবে পরিচিত। এবার এই আসন থেকে তাঁর ছেলে ওমর ফারুক মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত অলি আহমদ এখান থেকে বারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা প্রমাণ করেছেন।
পিতার উত্তরসূরি হিসেবে ওমর ফারুক মাঠে নামলেও এখন পর্যন্ত তার জোরালো কোনো প্রচার বা সভা দেখা যায়নি। স্থানীয় এলডিপি নেতাকর্মীরা সীমিত পরিসরে তৎপর থাকলেও মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি কতটা সক্রিয় থাকবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
বিএনপি এই আসনে এখনো কোন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি। এলডিপির জন্যই আসন ফাঁকা রেখেছিল তারা। তবে শেষ পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতা না হওয়ায় এককভাবে নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছে এলডিপি। আর এই খবরে এই আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির পাঁচ নেতা। তারা হলেন মো. ইফতেখার হোসেন, মো. আল হেলাল, এম এ হাশেম রাজু, মহসিন জিল্লুল করিম এবং এজাজ আহমদ চৌধুরী। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ডা. শাহাদাৎ হোসেন। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮ হাজার ৪২৪ জন।


