গাজায় সবশেষ ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ২৯ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। গাজা সিটির নুসাইরাত শরণার্থী শিবিরে নিহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনি। বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রকে উদ্ধৃত করে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় হতাহতের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।
অন্যদিকে দক্ষিণ গাজার সীমান্তবর্তী খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালে অপুষ্টি ও চিকিৎসার অভাবে ঈদ মাহমুদ আবু জাম্মা নামের আড়াই মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
নাসের হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছর ক্ষুধা ও চিকিৎসা সংকটে ১২ জনেরও বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। গত সপ্তাহে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, গাজা যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ও অপুষ্টিজনিত কারণে ১৪৭ শিশুসহ অন্তত ৪৪০ জন ফিলিস্তিনি মারা গেছে।

আনাদোলু এজেন্সির তথ্য অনুসারে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় গাজায় ৬৩ হাজার ৬৩৩ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত এক লাখ ৬০ হাজার ৯১৪ জন ।
এদিকে ভয়াবহ সংকটের মধ্যেই চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে গাজার সবচেয়ে বড় হাসপাতাল আল-শিফা। একদিকে ফুরিয়ে আসছে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ওষুধ অন্যদিকে ক্রমেই বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা।
প্রকট জ্বালানি সংকটের কারণে পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করা সম্ভভ হচ্ছে না জানিয়ে হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সালমিয়া বলেন, ‘ইসরায়েলি ট্যাংকগুলো হাসপাতালের দিকে এগিয়ে আসছে। ক্রমাগত বিমান হামলার মধ্যেই আমরা চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। যদি আল-শিফা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে গাজাবাসীর জীবনে বিপর্যয় নেমে আসবে। লক্ষাধিক বাস্তুচ্যুত মানুষ এখানে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের জীবন ঝুঁকিতে পড়বে।’
এদিকে গাজার মানবিক পরিস্থিতি চরম সংকটাপন্ন বলে শঙ্কা জানিয়েছে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তারা বারবার গাজায় জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানালেও ফিলিস্তিনের সীমান্ত ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকায় তা সম্ভব হচ্ছে না।


