গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় দুই মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের (বলাৎকার) অভিযোগে এক ব্যক্তির শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার বিকালে উপজেলার একটি আঞ্চলিক সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি হয়। এতে অংশ নেন রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষক, সাংস্কৃতিক কর্মী ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
অভিযুক্ত হলেন সানজু বকসী (৫২)। তিনি উপজেলার রামধন বকসীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। এছাড়া তিনি ওই মাদ্রাসার কালেকশনের কাজ করতেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, মাদ্রাসার পাশে বাড়ি হওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে দেড় মাস আগে নিজের বাড়িতে নিয়ে যৌন নির্যাতন (বলাৎকার) করেন সানজু বকসী। চলতি মাসের শুরুতে ওই মাদ্রাসায় রাত কাটিয়ে তাকে আবারও নির্যাতন করা হয়। শিশুটি চিৎকার করতে গেলে তার মুখ চেপে ধরা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে পরিবারসহ হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ভয়ে শিশুটি চুপ ছিল। মাসখানেক আগে অপর এক শিক্ষার্থীর সঙ্গেও সানজু একই কাজ করেন বলে বক্তারা অভিযোগ করেন। সম্প্রতি আবারও নির্যাতনের চেষ্টা করা হলে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত এক শিশু তার মাকে বিষয়টি জানায়। ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা আরও জানান, অভিযুক্ত সানজু বকসী ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। ভুক্তভোগীদের স্বজনরা থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সানজু ও তার লোকজন বাধা দেন। এতে তারা থানায় অভিযোগ না দিয়েই বাড়ি ফিরে আসেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে সানজু বকসীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।
সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার পরিচালক জানান, ঘটনার সময় তিনি ছুটিতে ছিলেন। ঘটনাটি জানার পর তিনি পরিচালনা কমিটির সবাইকে অবহিত করেছেন। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার দেড় মাস পরে তারা (ভুক্তভোগী পরিবার) অভিযোগ দিতে এসেছিলেন। এই জন্য তাদেরকে চেয়ারম্যান-মেম্বারদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপর তারা পুলিশকে আর কিছু জানায়নি।’


