অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও ক্ষতিকর চর্বিযুক্ত প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কের সামনে স্পষ্টভাবে সতর্কবার্তা চালুর দাবিতে দেশে প্রথমবারের মতো দুই মাসব্যাপী গণমাধ্যম প্রচারণা শুরু হয়েছে। জনসচেতনতা বাড়াতে এবং এ বিষয়ে কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সরকারের চলমান প্রক্রিয়াকে সহায়তা দিতে রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এই প্রচারণা উদ্বোধন করা হয়।
গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি সংস্থা প্রগতির জন্য জ্ঞান (প্রজ্ঞা), ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, ওয়ার্ক ফর এ বেটার বাংলাদেশ ট্রাস্ট, কোয়ালিশন ফর হেলদি ফুড এবং সেন্টার ফর ল অ্যান্ড পলিসি অ্যাফেয়ার্স যৌথভাবে এই প্রচারণা আয়োজন করে।
আগামী দুই মাসজুড়ে এই সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন চলবে। টেলিভিশন, বেতার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন ও মুদ্রিত সংবাদপত্রে ভিডিও বিজ্ঞাপন, অডিও ও স্থিরচিত্র প্রচার করা হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো প্যাকেটজাত খাবারের ক্ষতিকর দিকগুলো মানুষের সামনে তুলে ধরা এবং মোড়কে সতর্কবার্তা যুক্ত করার সরকারি প্রবিধান দ্রুত বাস্তবায়নে জোরালো জনমত গড়ে তোলা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আয়োজকরা জানান, বর্তমানে দেশে হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো অসংক্রামক রোগ মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। পরিসংখ্যান বলছে, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্যই এসব রোগ দায়ী। এছাড়া দেশের প্রায় ৩১ শতাংশ মানুষ অতিরিক্ত ওজন এবং ১৩ শতাংশের বেশি মানুষ স্থূলতায় ভুগছেন, যা স্ট্রোকসহ নানা জটিল রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের প্যাকেটের গায়ে স্পষ্টভাবে অষ্টভুজ আকৃতির সতর্কবার্তা থাকলে ক্রেতারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন কোন খাবারে অতিরিক্ত চিনি, লবণ বা চর্বি রয়েছে। এই দৃশ্যমান সতর্কতা সাধারণ মানুষকে স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে সাহায্য করবে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার কেনা থেকে বিরত রাখবে।
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, অতিরিক্ত চিনি ও চর্বিযুক্ত অস্বাস্থ্যকর খাবার সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে এবং মোড়কে সতর্কবার্তা বাধ্যতামূলক করতে প্রয়োজনীয় নীতিমালা তৈরিতে কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সোহেল রেজা চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব, গ্লোবাল হেলথ অ্যাডভোকেসি ইনকিউবেটরের কান্ট্রি লিড মুহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস, ঢাকা আহছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য ও পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ইকবাল মাসুদ, ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের নির্বাহী পরিচালক সাইফুদ্দিন আহমেদ, প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের এবং সিএলপিএর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মাহবুবুল আলম।


