হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের ম্যানেজার পরিচয় দিয়ে স্বল্পমূল্যে আইফোন, ল্যাপটপ ও অন্যান্য দামি ইলেকট্রনিক্স পণ্য সরবরাহের প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ৩১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক প্রতারক চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম মো. ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার (২৮)। সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) একটি দল সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর ভাটারা ও বাড্ডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে উত্তর বাড্ডার কমিশনার গলি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইল ফোন, যার মধ্যে একটি আইফোন, এবং সাতটি সিম জব্দ করা হয়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবীমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত এক ব্যক্তির সঙ্গে প্রথমে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করে প্রতারক চক্রটি। তারা নিজেদের বিমানবন্দরের অকশন বিভাগের কর্মকর্তা এবং পরে অপারেশন ম্যানেজার হিসেবে পরিচয় দিয়ে ভুক্তভোগীর আস্থা অর্জন করে। একপর্যায়ে তারা দাবি করে, বিমানবন্দরের অকশনে জব্দ বা অব্যবহৃত আইফোন, স্যামসাং মোবাইল, ল্যাপটপসহ বিভিন্ন মূল্যবান ইলেকট্রনিক্স পণ্য বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে বিক্রি করা হবে। পাশাপাশি তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী জীবনবীমা পলিসি নিতে আগ্রহী বলেও জানানো হয়।
সিআইডির ভাষ্য, প্রতারকরা ব্যবসার বৈধতা প্রমাণে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে জাল অনুমোদনপত্র, কথিত সরকারি নথি, সিভিল এভিয়েশন অথরিটি অব বাংলাদেশের (সিএএবি) ভুয়া কাগজপত্র এবং পুলিশ ক্লিয়ারেন্সসহ বিভিন্ন জাল দলিল ভুক্তভোগীর কাছে পাঠায়। এসব নথিতে বিশ্বাস করে ভুক্তভোগী ১১০টি আইফোন, ৭০টি স্যামসাং মোবাইল এবং ৫৪৩টি ল্যাপটপ কেনার জন্য দুটি ব্যাংক হিসাব ও তিনটি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে প্রায় ৩০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা পাঠান।
টাকা নেওয়ার পর প্রতারকরা কোনো পণ্য সরবরাহ না করে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকে এবং একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে ভুক্তভোগী প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে রাজধানীর পল্টন থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তভার গ্রহণ করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার।
সিআইডি জানায়, প্রযুক্তিগত তদন্ত, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হওয়া ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদারের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ চক্রটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ও পরিচয় ব্যবহার এবং জাল নথিপত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করে স্বল্পমূল্যে বিমানবন্দরের অকশনের ইলেকট্রনিক্স পণ্য দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসায়ীর কাছ থেকে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করত।
তদন্তে চক্রটির অন্যান্য সদস্য, ব্যবহৃত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট এবং প্রতারণার নেটওয়ার্ক সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। দলটির বাকি সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি আরও জানায়, গ্রেপ্তার ইব্রাহিম হোসেন ওরফে রবিন শিকদার এর আগেও রাজধানীর ভাটারা থানার একটি ডিজিটাল প্রতারণা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে আরও মামলা বা অভিযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রির প্রলোভন, অনলাইনে পাওয়া কথিত সরকারি অনুমোদনপত্র কিংবা অপরিচিত ব্যক্তির ব্যবসায়িক প্রস্তাবে বিশ্বাস করে আর্থিক লেনদেন না করার আহ্বান জানিয়ে সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত নিকটস্থ থানা বা সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ জানানোর পরামর্শ দিয়েছে সিআইডি।


