চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে বিভাগভিত্তিক পাসের হারে সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছে মানবিক বিভাগ। এ বিভাগ থেকেই অকৃতকার্য হয়েছেন সর্বোচ্চসংখ্যক শিক্ষার্থী। অন্যদিকে, সামগ্রিক ফলাফলে ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা এগিয়ে রয়েছেন। এ বছর ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ১৪ শতাংশ হলেও ছাত্রীদের পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৫ শতাংশ।
শনিবার বেলা ১১টায় দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়। সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মানবিক বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩২ জন ছাত্র। বিপরীতে, পাস করেছেন ৯০ হাজার ৬৬৪ জন। অন্যদিকে, এ বিভাগে ৩ লাখ ৪৮ হাজার ৮০৩ জন ছাত্রী অংশ নিয়ে পাস করেছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৬৪৭ জন। সব মিলিয়ে মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
অন্যদিকে, বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে তা ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। অর্থাৎ, বিভাগভিত্তিক ফলাফলে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে ভালো করেছেন, আর সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন মানবিক বিভাগের পরীক্ষার্থীরা।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে সামগ্রিক পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন শিক্ষার্থী ।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার তা নেমে এসেছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশে।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলেও পাসের হারে পার্থক্য রয়েছে। ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। অন্যদিকে বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। যশোর বোর্ডে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং দিনাজপুর বোর্ডে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছেন।
ফলাফল প্রকাশের পর শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, এ বছরের ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি। ঘাটতি পূরণে অভিভাবক ও শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
চলতি বছরের পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। তবে সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জনের ক্ষেত্রে ছাত্রীরা পিছিয়ে পড়েছেন। এ বছর ছাত্রদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রীদের চেয়ে ৬৪২ জন বেশি।
ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন ছাত্রের মধ্যে পাস করেছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন। ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
অন্যদিকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছেন ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। অর্থাৎ পাসের হারে ছাত্রদের তুলনায় ৮ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট এগিয়ে রয়েছেন ছাত্রীরা। পাসের সংখ্যাতেও ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
তবে জিপিএ-৫ অর্জনের চিত্রে দেখা গেছে ভিন্নতা। এ বছর ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র জিপিএ-৫ পেয়েছেন। বিপরীতে জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৭২১ জন। সে হিসাবে সর্বোচ্চ ফল অর্জনে ছাত্ররা ছাত্রীদের চেয়ে ৬৪২ জন এগিয়ে রয়েছেন।
বোর্ডভিত্তিক ফলাফলে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন শিক্ষার্থী। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২৫০ জন।
সর্বশেষ পাওয়া তথ্যমতে, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ, যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ, বরিশালে ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ, সিলেটে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এবারের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, দেশের ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেননি। বিপরীতে, ১৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শতভাগ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছেন।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। ৮ আগস্ট লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরবর্তী সময়ে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয়।
শনিবার বেলা ১১টায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পরীক্ষাকেন্দ্র এবং মোবাইল ফোনে এসএমএসের মাধ্যমে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়।


